দীর্ঘদিন পর আরব-আমিরাত থেকে দেশে আসেন আবদুর রহিম। ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার তারিখ ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি। সব প্রস্তুতি নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের ইরান হামলার কারণে ফ্লাইট স্থগিত। এই তথ্য শুনে তার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। বাধ্য হয়ে তিনি ফিরে যান গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। গতকাল মঙ্গলবার টেলিফোনে জানান, তার সবশেষ হয়ে গেছে। ভিসার মেয়াদের শেষ দিন ছিল গতকাল। এখন কী করবেন বুঝতে পারছেন না। প্রতিদিনই তার মতো কয়েক হাজার প্রবাসী শ্রমিক রাজধানীর শাহজালাল ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে ভিড় করছেন। ফ্লাইট বাতিলের খবরে তাদের আহাজারিতে গত কয়েক দিন বিমানবন্দরের বাতাস ভারী হয়ে আছে।
রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের সংগঠন বায়রার তথ্য বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে অন্তত লক্ষাধিক শ্রমিক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছেন। তাদের বেশির ভাগেরই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে অথবা শেষ হওয়ার পথে। আগামী ১৫ দিন এভাবে চলতে থাকলে শ্রমবাজারে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে। সরকারকে এ ব্যাপারে বিকল্প চিন্তা করতে হবে। যেসব দেশে শ্রমিকরা আছেন এবং যাচ্ছেন ওইসব দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলে ভিসার মেয়াদ বাড়াতেই হবে। তা ছাড়া অনেকে বিভিন্ন দেশ থেকে ট্রানজিট নিয়ে দেশে আসার সময় আটকা পড়েছেন। ফ্লাইট চলাচল না করায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকে না খেয়েও দিন-রাত পার করছেন বলে তথ্য মিলছে।
বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, ঝুঁকি নিয়ে কয়েকটি রুটে ইউএস-বাংলা ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস চলাচল করছে। ওইসব ফ্লাইটে যারা আসছেন, তারাও ভয়ের মধ্যে থাকছেন। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে। হঠাৎ হঠাৎ আক্রমণ করছে ইরান। আবার আমেরিকা ও ইসরাইলও পাল্টা আক্রমণ করছে। এসব কারণে প্রতিদিনই ফ্লাইটের সংখ্যা কমে আসছে। এভাবে চলতে থাকলে যেকোনো সময় সব রুটেই ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। গতকাল পর্যন্ত ১৮২টি ফ্লাইট চলাচল বাতিল করা হয়েছে।
রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের সংগঠন বায়রার সাবেক মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘কর্মীদের নিরাপদ কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার বিষয়টিতে বেশি প্রাধান্য দেওয়া দরকার। যুদ্ধের কারণে অনেক শ্রমিকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিকল্পভাবে তাদের কর্মস্থলে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতে শ্রমিকরা অসহায়। আমরা যতটুকু পারছি তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।’ একই কথা বলেছেন বায়রার নেতা মোবারক উল্লাহ শিমুলও। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের নিয়ে আমরাও উদ্বেগের মধ্যে আছি।’
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে থাকা বাংলাদেশিরা আছেন আতঙ্কে। ইতিমধ্যে ইরান ও ইসরায়েলের বাইরে সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান ও আবুধাবিতে বিস্ফোরণ হচ্ছে। এসব বিস্ফোরণে মৃত্যুর খবরও এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ওইসব দেশে থাকা বাংলাদেশের দূতাবাসগুলো বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। একই সময় ঢাকা থেকে দূতাবাসগুলোকে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে সরকার।
ভিসার মেয়াদ শেষ : ঘনিয়ে আসছে দুঃসময় : বর্তমানে বিদেশে গমনেচ্ছু শ্রমিকের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভিসার মেয়াদ। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার জন্য যারা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন, তাদের অনেকেরই ভিসার মেয়াদ আর মাত্র কয়েক দিন বাকি।
ভুক্তভোগী শ্রমিক রুহুল আমিন বলেন, ‘জমি বন্ধক রেখে আর চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ৩ লাখ টাকা জমা দিয়েছি এজেন্সিকে। এখন ভিসা হাতে আছে কিন্তু টিকিট নেই। যদি এই কয়েক দিনের মধ্যে না যেতে পারি, তবে আমার সব শেষ হয়ে যাবে। পাওনাদারদের মুখের দিকে আমি আর তাকাতে পারব না।’
এজেন্সিগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে, প্রশাসনিক জটিলতা এবং বিভিন্ন দেশে আকামা বা কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত নিয়মের কড়াকড়িতে এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পৌঁছাতে না পারলে নিয়োগকর্তারা ডিমান্ড লেটার বাতিল করে দিচ্ছেন, যার ফলে বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন শ্রমিকরা। একাধিক শ্রমিক জানান, তাদের অবস্থা খুবই খারাপ। বেশির ভাগ শ্রমিকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। কাতার এয়ারলাইনসে সৌদি আরবে যাওয়ার উদ্দেশে গতকাল নরসিংদী থেকে হজরত শাহজালালে আসেন যাত্রী রফিকুল ইসলাম। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে কাতারের উদ্দেশে বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করার কথা ছিল তার। এর আগে ভোর ৬টায় বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। সঙ্গে তার দুই স্বজনও ছিলেন। দুপুর ১২টায় বিমানবন্দরে মালামালের লাগেজ নিয়ে অপেক্ষা করার সময় কথা হয় রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। আক্ষেপ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ফ্লাইটটি বাতিল হয়েছে। আমাকে বহন করা সৌদিগামী কাতার এয়ারলাইনস ফ্লাইটির ট্রানজিট ছিল কাতারে। এ কারণে বাতিল হয়েছে ফ্লাইট।’
সৌদি আরবে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি তার। এক মাসের ছুটিতে দেশে আসেন। ছুটি শেষে গতকাল কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ফ্লাইট বাতিলের কারণে ভিসা নিয়ে বিপাকে পড়েছে। ভিসার মেয়াদ আর সাত দিন আছে। এর মধ্যে সময়মতো কর্মস্থলে যোগ দিতে না পারলে সৌদি ইমিগ্রেশন ওই দেশে প্রবেশের অনুমতি দেবে না।
প্রতিদিনই বাড়ছে ফ্লাইট বাতিল : ভোগান্তির নতুন মাত্রা : বিমানবন্দরের চিত্র এখন অত্যন্ত করুণ। গত এক সপ্তাহে ঢাকা ও চট্টগ্রামে শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এয়ারলাইনসগুলোর পক্ষ থেকে কারিগরি ত্রুটি বা ‘অপারেশনাল কারণ’ দেখানো হলেও সাধারণ শ্রমিকদের জন্য এটি মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরেজমিনে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, হাজারো মানুষ কনকোর্স হল এবং পার্কিং এরিয়ায় অপেক্ষা করছেন। কারও চোখে ঘুম নেই, মুখে অন্ন নেই। চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চিত্রও অভিন্ন। সেখানে প্রবাসী শ্রমিকদের ভিড়ে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। অনেকে বিলাপ করে কাঁদছেন। তাদের এই কান্নার শব্দ বিমানবন্দরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভবনের দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
ক্ষোভের সঙ্গে এক ভুক্তভোগী শ্রমিক বললেন, ‘সরকার আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধা বলে সম্মান দেয়, কিন্তু আজ যখন আমরা বিপদে, তখন কেউ আমাদের পাশে নেই বললেই চলে। এয়ারলাইনসগুলো আমাদের সঙ্গেও ভালো আচরণ করছে না। ফ্লাইট বন্ধ থাকার তথ্য পেয়ে আমরা যোগাযোগ করলেও কেউ সাড়া দেয় না। সীমিত আকারে ফ্লাইট চলাচল করছে জেদ্দা, মদিনা ও মাস্কাটে। বাকি অন্য জায়গায় কোনো ফ্লাইট নেই। উচ্চমূল্যের টিকিট বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ সময়ে যে টিকিটের দাম ৪০-৫০ হাজার টাকা ছিল, বর্তমানে তা কয়েকগুণ বেড়ে ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকায় ঠেকেছে।’
ঝুঁকি নিয়ে চলছে কয়েকটি রুটে ফ্লাইট : ১ মার্চ থেকে সীমিত আকারে ইউএস-বাংলা ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জেদ্দা ও মদিনায় ফ্লাইট চলাচল করছে। যাত্রীদের কথা চিন্তা করেই ঝুঁকি নিয়ে ফ্লাইট চলাচল করাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। দুদিন আগেও এই প্রতিবেদক জেদ্দা থেকে ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন। এ সময় যাত্রীদের মধ্যে ছিল এক ধরনের অজানা আতঙ্ক। তবে বিমানের পাইলট সাহসিকতার সঙ্গে ফ্লাইট চালিয়ে বাংলাদেশে আসছেন। আবার যাচ্ছেন জেদ্দায়।
সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে দুবাই থেকে ফ্লাইট নিয়ে আসেন পাইলট-ক্রু : যুদ্ধাবস্থাজনিত আকাশপথের অস্থিতিশীলতা ও সীমাবদ্ধতার কারণে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিএস-৩৪৪ (বোয়িং ৭৩৭) দুবাইয়ে ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় অবস্থান করতে বাধ্য হয়। এ সময় ৩৯ জন পাইলট ও কেবিন ক্রু সেখানে আটকা পড়েন। দুবাই বিমানবন্দরেও কার্যক্রম সীমিত ছিল এবং পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল। ইউএস-বাংলা দুবাই স্টেশন ও ঢাকা হেড অফিস কর্তৃপক্ষ দুবাই বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে একটি নিরাপদ করিডর নিশ্চিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালায়। অবশেষে স্বল্পসময়ে একটি বিশেষ অনুমতি পাওয়া গেলে, সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় যাত্রীবিহীন ফ্লাইটে ৩৯ জন ক্রুকে নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দুবাই থেকে ছেড়ে আসা এটি ছিল একমাত্র বাংলাদেশি ফ্লাইট। ফ্লাইটটির নেতৃত্ব দেন ক্যাপ্টেন সামসুজ্জাহান এবং ফার্স্ট অফিসার শাহাদাত। চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মধ্যেও তারা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে গতকাল ভোর ২টা ৩৬ মিনিটে নিরাপদে ঢাকায় অবতরণ করেন। সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন এত কর্মকর্তা জানান, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস তার যাত্রী, পাইলট ও ক্রুদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অনিশ্চিত সময়েও দায়িত্ববোধ, সমন্বয় ও সাহসই তাদের এগিয়ে নিয়ে যায়।
বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বেশির ভাগ ফ্লাইট স্থগিত : বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট বন্ধ জেদ্দা, মদিনা ও মাস্কাট ছাড়া সব দেশেই। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে আজ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের ১৪৮টি ফ্লাইট ঢাকা থেকে বাতিল করা হয়েছে। ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আকাশপথ বন্ধের কারণে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি ফ্লাইট, ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি এবং ৩ মার্চ ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
শাহ আমানতেও একই অবস্থা : চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ ও দোহার এয়ারফিল্ড বন্ধ রয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গতকাল আরও সাতটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। গতকাল সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা একটি অ্যারাইভাল ফ্লাইট বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্যগামী একটি ডিপার্চার ফ্লাইট এবং একটি অ্যারাইভাল ফ্লাইটও বাতিল করা হয়। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহীম খলিল বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শাহ আমানত থেকে এখন পর্যন্ত ৩৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
ছয় গন্তব্যে বিমানের ফ্লাইট অনির্দিষ্টকাল স্থগিত : যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ছয়টি গন্তব্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সব ফ্লাইট পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। দাম্মাম, দোহা, দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ এবং কুয়েত রুটে সাময়িকভাবে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ রাখা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানান বিমানের এক কর্মকর্তা।
পুরো মাস বন্ধ থাকবে পাকিস্তানের আকাশসীমা : আঞ্চলিক বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘেœর মধ্যে, পুরো মার্চ মাস বাণিজ্যিক ফ্লাইটের জন্য আকাশসীমা আংশিকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের বিভিন্ন শহর এবং মধ্যপ্রাচ্যের গন্তব্যস্থলগুলোর মধ্যে ১৫০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়। করাচি এবং লাহোর ফ্লাইট তথ্য অঞ্চলের নির্বাচিত রুট বিভাগগুলো গতকাল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখবে।