মুন্সীগঞ্জে শ্যামল বেপারি হত্যা মামলায় তিন জনকে মৃত্যুদ- এবং আট জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক শ্যাম সুন্দর রায় এ রায় দেন। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, শাহাদাত বেপারি, জাহাঙ্গীর বেপারি, ইব্রাহিম বেপারি। সর্বোচ্চ সাজার পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, মনির চৌকিদার, হায়াতুল ইসলাম চৌকিদার, হাবিব বেপারি, আশরাফুল খান, হুমায়ুন দেওয়ান, এমদাদ হালদার ওরফে ইমরান, আইয়ুব খাঁ ও লিটন বেপারি। দন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে মৃত্যুদন্ডাদেশ পাওয়া ইব্রাহিম বেপারি এবং যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া লিটন বেপারি, এমদাদ হালদার ওরফে ইমরান, হাবিব বেপারি পলাতক।
মামলার অভিযোগ বলা হয়, মুন্সীগঞ্জের পূর্ব রাখি গ্রামে ২০২৩ সালের ১৩ জুন শ্যামল নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। পূর্ব বিরোধের জের ধরে রাত ১টার দিকে জরুরি কথা আছে বলে শ্যামলকে ডেকে তোলে। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে শ্যামলকে মাথাসহ শরীরে উপর্যুপরি গুলি ও টেনেহিঁচড়ে মারধর করে গুরুতর আহত করে আসামিরা। গুলির শব্দে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিদের কয়েকজ ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে চলে যায়। পরে শ্যামলকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মুন্সীগঞ্জ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। সেখান থেকে মামলাটি ঢাকার দ্রুতবিচার আদালত-৩ এ পাঠানো হয়। গত বছরের ১৪ জুলাই ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে আদালত মামলার বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ২৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে।