‘এপিক ফিউরি’ অভিযানে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি ইসরায়েলের

অপারেশন ‌এপিক ফিউরি-র আওতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ইরানের পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। এই হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং রাডার স্টেশনগুলো ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল (মাইকেল) লিটার।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় রাষ্ট্রদূত লিটার জানান, এই হামলার ফলে তেহরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করার সক্ষমতা হারিয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে এটি ছিল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা এই অভিযানের মাধ্যমে নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত লিটার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং এপিক ফিউরি অভিযানের সঙ্গে মিলে আমরা পশ্চিম ইরানের অধিকাংশ রাডার স্টেশন এবং ভূমি থেকে ভূমিতে ও ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলো ধ্বংস করেছি। গত দুই দিনে আমরা তেহরানের চারটি প্রধান কমান্ড সেন্টারের সবকটিই গুঁড়িয়ে দিয়েছি। এর মধ্যে গতকাল তিনটি এবং আজ শেষটি ধ্বংস করা হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, এই হামলার ফলে আয়াতুল্লাহ শাসিত ইরানের সামরিক কমান্ড চেইনে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। ওপরমহল থেকে মাঠ পর্যায়ের সেনাদের কাছে বার্তা পৌঁছানোর প্রক্রিয়া বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে লক্ষ্যহীনভাবে যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে, তা এই বিশৃঙ্খলারই বহিঃপ্রকাশ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অভিযানের গুরুত্ব তুলে ধরে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত বলেন, আজকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ছিল সেই কেন্দ্রটি, যেখানে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে ক্ষেপণাস্ত্রের ডেলিভারি সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল। পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে ইউরেনিয়াম এবং ডেলিভারি সিস্টেমের এই সমন্বয়ই সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়। আমরা যদি এই অভিযানে দেরি করতাম, তবে তারা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে যেত যে ওই সুরক্ষিত স্থাপনাটি ধ্বংস করা অসম্ভব হয়ে পড়ত। তাই আমাদের এখনই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত লিটার মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, ইরানিদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকেই তেহরান স্বীকার করেছে যে তাদের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৬৪২ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ৬০ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধিতে পৌঁছাতে তাদের মাত্র এক সপ্তাহ সময় লাগত, যা দিয়ে ১১টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব। এরপর শুধু ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে তা যুক্ত করার অপেক্ষা থাকত। একবার সেটি হয়ে গেলে আমাদের পক্ষে আর কিছুই করার থাকত না। সেই আসন্ন বিপদ রুখতেই এই যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে।’

সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল