ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র আওতায় নজিরবিহীন হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। অভিযান শুরুর ১০০ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, নৌ-যান এবং কমান্ড অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক ভিডিও বার্তায় এই সাফল্যের কথা জানান মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার।
অ্যাডমিরাল কুপার জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও যুদ্ধ সচিবের নির্দেশে মধ্যপ্রাচ্যে এই বিশাল অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। গত প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের হুমকি চিরতরে নির্মূল করাই এই অপারেশনের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি সেনা, ২০০টি যুদ্ধবিমান, দুটি বিমানবাহী রণতরী এবং শক্তিশালী বি-২ ও বি-১ বোমারু বিমান এই অভিযানে অংশ নিচ্ছে। কুপারের মতে, এটি গত এক প্রজন্মের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক শক্তি সমাবেশ।
অভিযানের ভয়াবহতা তুলে ধরে সেন্টকম প্রধান বলেন, গত ১০০ ঘণ্টার কম সময়ে প্রায় ২ হাজারটি লক্ষ্যবস্তুতে ২ হাজারেরও বেশি গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়েছে। মার্কিন বি-২ এবং বি-১ বোমারু বিমানগুলো ইরানের ভূখণ্ডের গভীরে ঢুকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানায় কোনো বাধা ছাড়াই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালিয়েছে। এতে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস হয়েছে।
আকাশপথের পাশাপাশি সমুদ্রপথেও ইরান বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। অ্যাডমিরাল কুপার দাবি করেন, ‘আমরা ইরানের নৌবাহিনীকে ডুবিয়ে দিচ্ছি।’ এখন পর্যন্ত ইরানের ১৭টি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্যে ইরানের সবচেয়ে সচল ও শক্তিশালী সাবমেরিনটিও রয়েছে, যা মার্কিন হামলায় বড় ধরনের ছিদ্র হয়ে অকেজো হয়ে পড়েছে।
ইরান বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অ্যাডমিরাল কুপার। তিনি বলেন, ‘ইরানের পালটা আঘাত হানার ক্ষমতা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে, অন্যদিকে আমাদের যুদ্ধ সক্ষমতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।’ সামগ্রিক অপারেশনাল মূল্যায়ন তুলে ধরে তিনি জানান, মার্কিন বাহিনী বর্তমানে তাদের মূল যুদ্ধ পরিকল্পনার (গেম প্ল্যান) চেয়েও অনেক এগিয়ে রয়েছে।
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল