এশিয়ান কাপের অভিষেকে ৯ বারের শিরোপা জয়ী চীনের কাছে ২-০ গোলে হেরে গেলেও দুর্দান্ত পারফর্মেন্সে হৃদয় জয় করে নিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে লড়েছে পুরোটা সময়। বাংলাদেশের আক্ষেপের জায়গা ঋতুপর্ণা চাকমার সেই চোখ ধাঁধানো শট থেকে গোল না হওয়া।
আজ বুধবার সিডনির জুবিলি স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের মিডফিল্ডার মারিয়া মান্দা বলেন, ‘আমরা একটা কঠিন দলের সঙ্গে খেলেছি। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি...আমাদের যে চেষ্টা ছিল সে চেষ্টাকে আসলে আমরা সফল করতে পেরেছি। ৯ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে যে টিম, সেই টিমের সাথে আমরা মাত্র দুই গোল খেয়েছি। তো ওইটা আসলে আমাদের জন্য অনেক কিছু শেখার।’
ম্যাচের ১৪তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দ্রুত বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে বাঁ পায়ের শট নেন ঋতুপর্ণা। বল প্রায় পোস্টে ঢুকে যাচ্ছিল, শেষ মুহূর্তে চীনের গোলকিপার চেন চেন ফিস্ট করে কর্নারের বিনিময়ে দলকে রক্ষা করেন। ঋতুপর্ণার সেই শট নিয়ে মারিয়া বলেন, ‘আফসোস তো থাকবেই। কারণ, একটা ভালো টিমের সঙ্গে যেটা চান্স আসে, তা যদি কাজে লাগানো যায়, তাহলে সেটা আমাদের জন্যই অনেক ভালো। আমরা ওর শটের ভিডিওটা অনেকবার দেখেছি।’
গতকালের ম্যাচটিতে নিয়মিত গোলকিপার রূপনা চাকমাকে বসিয়ে খেলানো হয় মিলিকে। গোলপোস্টে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন উচ্চতার কারণে সুযোগ পাওয়া এই কিপার। তার প্রশংসায় মারিয়া বলেন, ‘যদিও শুরুতে কিছুটা সংশয় ছিল যে, সে কেমন করবে। কিন্তু তারপরেও ওটা বুঝতে দেয় নাই সে আমাদের। সে নিজের পারফরম্যান্সটা ভালোভাবে দিয়েছে। আমাদের মনের ভেতর আস্থা ছিল তাকে নিয়ে।’
মারিয়া-ঋতুপর্ণাদের পারফর্মেন্স এদিন দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হেরে যাওয়া দলকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরা। তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মারিয়া বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত প্র্যাকটিস করছি, তারই ফল পেয়েছি। বিশেষ করে দেশের বাইরে বা দেশে যারা আমাদের উৎসাহিত করেছেন, তাঁদের জন্যই আসলে ভালো কিছু করতে পেরেছি।’