যশোরে এক কোটি টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। অপহরণের তিন দিন পার হলেও তার কোনো সন্ধান পায়নি পুলিশ।
স্বামীকে জীবিত উদ্ধারের আকুতি জানিয়ে বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল ৩টায় প্রেস ক্লাব যশোর-এ সংবাদ সম্মেলন করেন তার স্ত্রী রেশমা খাতুন।
সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেশমা খাতুন বলেন, আমার স্বামী আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিন মেয়ে নিয়ে চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি। তাকে জীবিত ফেরত চাই।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম যশোর সদর উপজেলার ধর্মতলা সুজলপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি শংকরপুর পশু হাসপাতালের সামনে অবস্থিত ‘আর আর মেডিকেল’ ও ‘জে আর এগ্রোভেট’-এর স্বত্বাধিকারী। গত ২ মার্চ রাত পৌনে ১০টার দিকে প্রতিদিনের মতো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন।
রেশমা খাতুনের অভিযোগ, বাড়ির অদূরে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় তার মোটরসাইকেলটিও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
অপহরণের কিছুক্ষণ পর রাত ১০টার দিকে জাহাঙ্গীর আলমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকেই প্রথমে তার মা জাহানারা খাতুনের কাছে এবং পরে স্ত্রীর কাছে ফোন আসে। ফোনে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি পরিবারের।
রেশমা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামীর সঙ্গে কারো কোনো শত্রুতা ছিল না। তিনি সৎভাবে ব্যবসা করতেন। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটাল, আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না।’
ঘটনার পর যশোর কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। থানার ওসি ফারুক আহমেদ বলেন, ‘অভিযোগটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধারে একাধিক টিম কাজ করছে এবং সব ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে অপহৃতের মা জাহানারা খাতুন, ছোট বোন সেলিনা খাতুন, ভগ্নিপতি নুরুজ্জামান মিয়া ও সন্তানরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবার প্রশাসনের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলো হচ্ছে- জাহাঙ্গীর আলমকে দ্রুত ও জীবিত উদ্ধার। অপহরণকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা।
তারা আরও বলেন, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে দ্রুত অপহরণকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।