ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবনের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।
সমাবেশে সমাজকল্যাণ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী জোবেন বলেন, ‘ম্যামকে কালকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু এর আগে এক বছর ধরে ম্যামকে তিলে তিলে শেষ করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই অন্তঃকোন্দল আজকের না। আমাদের ম্যাম যখন দায়িত্ব নেওয়া শুরু করেছেন, তখন থেকে তাকে ব্যর্থ-অকার্যকর চেয়ারম্যান হিসেবে প্রমাণ করার জন্য আমাদের কর্মচারী, আমাদের গুটিকয়েক শিক্ষক জড়িত ছিলেন। স্পষ্ট কথা এটা। আজকে সাধারণ ফজলুর থেকে খুনি ফজলুর হওয়ার পেছনে আমাদের কর্মচারীরা জড়িত আছেন। কারণ, আমাদের সামনেই অনেকবার কর্মচারীদের বলেছেন, আপনারা একটা চেয়ারের সঙ্গে এমন আচরণ করতে পারেন না। আমরা রিকোয়েস্ট করেছি, আমরা ধমক দিয়ে কথা বলেছি, কিন্তু আমাদের কথা গ্রাহ্য করে নাই।’
বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী সাদিয়া সাবরিনা বলেন, ‘আমরা ম্যামের হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে এখানে এসেছি। ম্যাম আমাদের বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন। একজন কর্মচারী কতটা উগ্র হলে রুমে ঢুকে তাকে হত্যা করতে পারে! এই ঘটনার সাক্ষী অনেকেই আছেন, তাই আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাই।’
বিভাগটির সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমি একজন মানুষ হিসেবে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। যদি আমি নিজেও এর সাথে জড়িত থাকি, তাহলে আমি নিজেরও শাস্তি দাবি করছি।’
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা কয়েকটি দাবি জানান। দাবিগুলো হলো, দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীর ফাঁসি নিশ্চিত করা, হত্যার নেপথ্যের কেউ থাকলে জবাবদিহির আওতায় এনে তার বিচার নিশ্চিত করা, ক্যাম্পাস-হল-ডিপার্টমেন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা নিশ্চিত করা এবং তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এবং কেন্দ্রীয় সার্ভারে সংরক্ষণ করা, স্মার্ট আইডি ছাড়া কেউ ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারবে না (ভ্যানওয়ালা, দোকানদার সবাইকে আইডি কার্ডের ব্যবস্থা করা), ডেইলি বেসিস কর্মচারীদের নেমপ্লেটসহ আলাদা পোশাকের ব্যবস্থা করা এবং তাঁদের বেতন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দেওয়ার ব্যবস্থা করা, বিভাগীয় আয়-ব্যয়ের হিসাব পরিষ্কার রাখা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসা এবং ক্যাম্পাসে বহিরাগত ব্যক্তিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়ার মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। পরে জানাজার উদ্দেশ্যে মরদেহ কুষ্টিয়া পৌর ঈদগাহ মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। বাদ জোহর জানাজা শেষে তার মরদেহ পৌর গোরস্থানে দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়।
এর আগে গতকাল বুধবার বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি আসমা সাদিয়াকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন একই বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমান। পরে ফজলুরও আত্মহননের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন। আসমা সাদিয়া কুষ্টিয়া শহরে কোর্টপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। তার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকতা করেন। এই দম্পতির তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।