মা স য়া লা

রোজায় ইনজেকশন নেওয়ার বিধান

রগ, চামড়া, মাংসপেশি বা পেটে ইনজেকশন দিলে (যেমন কুকুর কামড় দিলে পেটে দেওয়া হয়) রোজা ভাঙবে না। কারণ এসব রোজা ভাঙার কারণের মধ্যে পড়ে না। রোজা ভঙ্গের কারণ হচ্ছে, স্বাভাবিক প্রবেশপথ দিয়ে পেটে বা মস্তিষ্কে কোনো কিছু প্রবেশ করা।

টিকা-ইনজেকশন বা ইনসুলিনের ব্যাপারে জমহুর ওলামাদের রায় এটাই। এসব কোনো কিছু সরাসরি খাদ্যনালি অতিক্রম করে না। এ মাসয়ালায় মুসলিম বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা একমত পোষণ করেছেন। (ইমদাদুল ফতোয়া ২/১৪৪, ফতোয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ ৬/৪০০-৪০৯)

রোজায় ইনহেলার নেওয়ার বিধান

ইনহেলারের মাধ্যমে শ্বাসকষ্ট প্রতিরোধে বিশেষ পদ্ধতিতে মুখের ভেতরে স্প্রে করতে হয়। এতে শ্বাসরুদ্ধ জায়গাটি প্রশস্ত হয়ে যায়। ফলে শ্বাস চলাচলের কষ্ট দূর হয়। যদিও স্প্রে করার সময় ওষুধটি গ্যাসের মতো দেখায়, কিন্তু বাস্তবে এটি তরল ওষুধ। তাই মুখের ভেতরে স্প্রে করার কারণে রোজা ভেঙে যাবে এবং পরে ওই রোজা কাজা আদায় করতে হবে।

অনেককে বলতে শোনা যায়, ইনহেলার অতি প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়, তাই এতে রোজা ভঙ্গ হবে না। তাদের এ উক্তিটি সঠিক নয়। তবে স্প্রে করার পর না গিলে যদি থুতু দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়, তাহলে রোজা ভাঙবে না। (ফতোয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত ৫/৪৫৯)

রোজায় ইনহেলার ব্যবহারের নিয়ম

কোনো কোনো চিকিৎসক বলেন, সাহরিতে এক ডোজ ইনহেলার নেওয়ার পর সাধারণত ইফতার পর্যন্ত আর ইনহেলার ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। তাই এভাবে ইনহেলার ব্যবহার করে রোজা রাখতে হবে। তবে কারও অবস্থা যদি এমন মারাত্মক আকার ধারণ করে যে, ইনহেলার নেওয়া ছাড়া ইফতার পর্যন্ত অপেক্ষা করা কষ্টকর হয়ে পড়ে, তাহলে তাদের ক্ষেত্রে শরিয়তে এ সুযোগ রয়েছে যে, তারা প্রয়োজনভেদে ইনহেলার ব্যবহার করবে এবং পরবর্তী সময় রোজা কাজা করে নেবে। আর কাজা করা সম্ভব না হলে ফিদিয়া আদায় করবে। (ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ৩২৫)

রোজায় রক্ত দেওয়ার বিধান

রোজা রাখা অবস্থায় রক্ত দিলে রোজা ভাঙবে না। তবে কেউ যদি শারীরিকভাবে এমন দুর্বল হয় যে, রক্ত দিলে সে রোজা রাখার শক্তি হারিয়ে ফেলবে, তাহলে তার জন্য রক্ত দেওয়া মাকরুহ। আর রোজা অবস্থায় শরীর থেকে রক্ত বের হলে রোজা ভাঙে না। একইভাবে সিরিঞ্জ দ্বারা বের করা হলেও রোজা ভাঙে না। (আহসানুল ফাতাওয়া ৪/৪৩৫)

রোজায় বমির বিধান

রোজা অবস্থায় বমির বিধানটি মূলত ধরনের ওপর নির্ভর করে। যদি কোনো রোজাদারের অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হয়, তবে তার পরিমাণ অল্প হোক বা বেশি হোক, এতে রোজা ভাঙবে না। পক্ষান্তরে, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে (যেমন গলায় আঙুল দিয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে) মুখভর্তি বমি করে, তবে তার রোজা ভেঙে যাবে এবং পরবর্তী সময় ওই রোজার কাজা আদায় করা ওয়াজিব হবে। তবে ইচ্ছাকৃত বমি যদি সামান্য হয় (মুখভর্তি না হয়), তবে রোজা ভাঙবে না। (উল্লেখ্য, ‘মুখভর্তি বমি’ বলতে এমন পরিমাণকে বোঝায়, যা জবরদস্তি ছাড়া মুখে আটকে রাখা সম্ভব হয় না।)

এ বিষয়ে নবীজি (সা.) সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘যার অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হলো, তাকে ওই রোজার কাজা করতে হবে না। কিন্তু যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে, তাকে অবশ্যই কাজা করতে হবে।’ (সুনানে তিরমিজি ৭২০) বমি হওয়ার পর যদি ওই বমির কোনো অংশ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে পুনরায় গিলে ফেলে, তবে তার রোজা ভেঙে যাবে। তবে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে বা নিজের অজান্তেই বমির কোনো অংশ আবার পেটে চলে যায়, তবে এতে রোজা ভাঙবে না। বমি হওয়া বা তা অনিচ্ছাকৃতভাবে পেটে ফিরে যাওয়া একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যার ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ থাকে না।

গ্রন্থনা : মুফতি হাসান আল মামুন