মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত সপ্তম দিনে ইরানে হামলা চালাতে ইরানি কুর্দি বাহিনীকে উৎসাহ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, প্রতিবেশী ইরাক থেকে ইরানি কুর্দি গোষ্ঠীগুলো যদি ইরানে প্রবেশ করে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে চায়, তবে তিনি সেই উদ্যোগকে সমর্থন করবেন। নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে ইরানি কুর্দি মিলিশিয়ারা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেছে। এদিকে বৃহস্পতিবার ইরাকের কুর্দিস্তানে একটি ইরানি বিরোধী শিবিরে ইরানের দুটি ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলের রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি ও একটি রাডার স্থাপনা, কুয়েতের আল-আদিরি ক্যাম্প—যেখানে মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে—এবং ইরাকের এরবিলে মার্কিন সেনা অবস্থানরত একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা।
চলমান সংঘাত এখন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের হামলার ঘটনা ইসরায়েল, উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ, সাইপ্রাস, তুরস্ক ও আজারবাইজানে ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ভারত মহাসাগরেও উত্তেজনা ছড়িয়েছে, যেখানে একটি মার্কিন সাবমেরিন ইরানের একটি নৌযান ডুবিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে।
ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত রাইসিনা ডায়ালগ সম্মেলনে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদে এই সংঘাতকে 'অস্তিত্বের যুদ্ধ' হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেখান থেকেই হামলা চালাবে, সেখানেই ইরান জবাব দেবে।
এদিকে ট্রাম্প আরও বলেন, গত সপ্তাহে বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির পরবর্তী নেতা নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রেরও ভূমিকা থাকা উচিত।
তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্য সম্প্রসারণ করা হয়নি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা।
হেগসেথ আরও জানান, শনিবার ইরানের একটি মেয়েদের স্কুলে হামলায় বহু শিশু নিহত হওয়ার ঘটনার তদন্ত করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। রয়টার্সকে দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ওই হামলার জন্য সম্ভবত মার্কিন বাহিনী দায়ী, যদিও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযান ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের বড় অংশ এই অভিযানের পক্ষে নয় এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের কারণে পেট্রোলের দাম বাড়ার আশঙ্কা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। তবে ট্রাম্প এসব উদ্বেগকে গুরুত্ব দেননি।