‘জুমা মুবারক’বলে শুভেচ্ছা বিনিময়, ইসলাম কি বলে

জুমা শব্দটি আরবী, এর অর্থ একত্রিত হওয়া, সম্মিলিত হওয়া, কাতারবদ্ধ হওয়া। যেহেতু সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিন শুক্রবারে প্রাপ্তবয়স্ক মুমিন-মুসলমান একটি নির্দিষ্ট সময়ে একই স্থানে একত্রিত হয়ে জামায়াতের সঙ্গে সে দিনের জোহরের নামাজের পরিবর্তে এই নামাজ ফরযরূপে আদায় করে।  দিনটিকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন অর্থাৎ ঈদুল ফিতর ও আজহার মতো।

দিনটিতে অনেকেই একে অন্যের সঙ্গে ‘জুমা মুবারক’ বলে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বেশ কিছু দিন থেকে এটি একটি বিশেষ প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু জুমাবারে এ ধরনের শুভেচ্ছাবাক্য বিনিময় করা আদৌ ইসলাম সমর্থন করে কিনা তা জানা দরকার।

কাউকে ‘জুমা মুবারক’ বলে শুভেচ্ছা জানানোর মানে হলো, আপনার জুমাবার বরকতময় হোক! বাক্যটির অর্থের বিচারে আপাতদৃষ্টিতে এতে কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়।

কিন্তু প্রত্যেক শুক্রবারে নিয়ম করে এ ধরনের শুভেচ্ছা বিনিময় করা রাসুলুল্লাহর (সা.) সুন্নাহ সমর্থন করে না। সাহাবায়ে কেরামের (রা.) আমল দ্বারাও এরকম শুভেচ্ছা বিনিময় প্রমাণিত নয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কেউ যদি আমাদের (ইসলামের) সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ নয় এমন কোনো আমল করে, তা প্রত্যাখ্যাত হবে। (বুখারি ও মুসলিম)

অপর হাদিসে এসেছে, কেউ যদি ইসলামে নতুন কোনো কিছু শুরু করে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা বাতিল বলে গণ্য হবে। (বুখারি ও মুসলিম)

আর একে অপরকে ‘জুমা মুবারক’ বলে শুভেচ্ছা জানানোর এই নব্য আবিষ্কৃত প্রথা সুন্নাহ সমর্থিত কোনো আমল নয়। তাই ওলামায়ে কেরাম এটিকে বিদয়াত বলেছেন।

তবে কিছুর মহান আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন। আল্লাহ সুবাহানাতালা সবাইকে সঠিত পথ (সিরাতাল মুস্তাকিম) দেখান, সৎ পথে চলার তাওফিক দান করেন এবং সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন