বগুড়ায় মানসিক ভারসাম্যহীন নাতির লাঠির আঘাতে দাদার মৃত্যু

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন নাতির লাঠির আঘাতে সঞ্জব আলী শেখ (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে ধুনট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে সঞ্জব আলীকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হলে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়। 

নিহত সঞ্জব আলী ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের ইয়াজ উদ্দিনের ছেলে। অভিযুক্ত সুলতান মাহমুদ (৩৫) একই গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে এবং নিহতের প্রতিবেশী নাতি।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুলতান মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা করালেও পুরোপুরি সুস্থ করতে পারেননি। মাঝে মাঝে তার আচরণ স্বাভাবিক থাকলেও মানসিক উত্তেজনা বেড়ে গেলে পরিবারের সদস্যরা তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতেন।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হঠাৎ করে তার মানসিক অস্থিরতা বেড়ে যায়। ওইদিন সকালে সঞ্জব আলী বাড়ি থেকে কৃষিকাজের উদ্দেশ্যে ফসলি মাঠে যাচ্ছিলেন। পথে সুলতান মাহমুদের বাড়ির সামনে পৌঁছালে তিনি উত্তেজিত হয়ে লাঠি দিয়ে সঞ্জব আলীর মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর গ্রামবাসী অভিযুক্ত সুলতান মাহমুদকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার পরিবারের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।