হলফ নামা বিশ্লেষণ: বগুড়া-৬ (সদর)

সস্ত্রীক সম্পদের এগিয়ে বিএনপি প্রার্থী, স্ত্রীর কোনো সম্পদ নেই জামায়াত প্রার্থীর

নির্বাচনের পর নিয়ম অনুযায়ী বগুড়া-৬ সদর আসনটি ছেড়ে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসনে ২ লাখ ১৬ হাজার ২৯০ ভোট পেয়ে জয়ী হন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবিদুর রহমান সোহেল পান ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট।

এদিকে ওই আসনে আগামী ৯ এপ্রিল উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ইতোমধ্যে তিনজন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) তাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ফজলুল করিম।

তিন প্রার্থীর হলফ নামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে আয় ও সম্পদে এগিয়ে আছেন বিএনপির প্রার্থী ও দলের জেলা সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তার বার্ষিক আয় ১০ লাখ ৬৬ হাজার ২০০ টাকা। তবে তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম কল্পনার বার্ষিক আয় ৪৯ লাখ ২০ হাজার ৫১৩ টাকা।

এদিকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেলের বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৩৩৩ টাকা। তবে তার স্ত্রীর কোনো আয় নেই। এছাড়া বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির প্রার্থী আল আমিনের আয় ২ লাখ টাকা।

মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় বিএনপি প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা আয়কর রিটার্নে তার সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ১ কোটি ৬৬ লাখ ৮৪ হাজার ২৮০ টাকা। তার আয় বাড়ি ভাড়া থেকে ৩০ হাজার, ব্যবসা থেকে ৩ লাখ ২৪ হাজার ও অন্যান্য উৎস থেকে ৭ লাখ ১২ হাজার টাকা। চলতি বছরে আয় থেকে কর দিয়েছেন ৬৯ হাজার ৯৩০ টাকা। একটি মাইক্রোবাস রয়েছে যার মূল্য ৩৬ লাখ টাকা।

রেজাউল করিম বাদশার শহরের শিববাটি মৌজায় ৯৫০ স্কয়ারফুটের একটি বাড়ির মূল্য দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা। মেসার্স রেজাউল অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এই প্রার্থীর বিনিয়োগ আছে ৯২ লাখ ২১ হাজার ২৪০ টাকান। আরও সম্পত্তি দেখিয়েছেন ১ কোটি ১০ লাখ ১২ হাজার ৭৮০ টাকার। সঞ্চয়পত্র আছে ৩২ লাখ ১১ হাজার ৫০০ টাকার।

তার স্থাবর সম্পত্তি আছে ৭৯ লাখ ৩৯ হাজার ৪৯৯ টাকার। অকৃষি জমি আছে ৩২ শতক, এর মূল্য দেখিয়েছেন ১১ লাখ ৮১ হাজার ৫৪০ টাকা। একটি দোকানের মূল্য দেখানো হয়েছে ৩ লাখ টাকা। বাদশার নামে ১২টি রাজনৈতিক মামলা ছিল। সবগুলো থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।

বাদশার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম কল্পনার পেশা শিক্ষকতা ও ব্যবসা। তিনি আয়কর রিটার্নে সম্পত্তির পরিমাণ দেখিয়েছেন ৩ কোটি ৬৮ লাখ ৬৭হাজার ৯০২ টাকা। চলতি বছরে আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৫ টাকা। ব্যাংক ঋণ আছে ২০ লাখ টাকা। তাঁর বার্ষিক আয়ের মধ্যে কৃষি খাত থেকে ৬ লাখ ৮০ হাজার, বাড়ি ভাড়া থেকে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৫১৩ টাকা, ফ্ল্যাট বিক্রয় ও অন্যান্য উৎস থেকে আয় দেখিয়েছেন ৩৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

কল্পনার নামে এফডিআর আছে ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, সঞ্চয়পত্রসহ বিনিয়োগ আছে ২১ লাখ ৩২ হাজার ৪০০ টাকা। একটি মাইক্রোবাস আছে তার, যার মূল্য দেখিয়েছেন ১৪ লাখ ৮৩ হাজার ১৩৫ টাকা।

এ ছাড়া স্বর্ণ আছে ২০ তোলা, আসবাবপত্র ৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকার। স্থাবর সম্পত্তি আছে ১ কোটি ১৬ লাখ ৪৫ হাজার ৯০ টাকার। ১২ হাজার ১২৫ স্কয়ারফুটের একটি বাসা আছে বিএনপি প্রার্থীর স্ত্রীর মালিকানায়, যার স্থাপনা মূল্য দেখিয়েছেন ২৭লাখ ৬৩ হাজার টাকা। কাটনারপাড়া মৌজায় ৬ তলা একটি নির্মাণাধীন বাড়ি আছে, যার মূল্য দেখিয়েছেন ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। একটি ফ্ল্যাট আছে, যার মূল্য ৪০ লাখ টাকা।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল হলফনামায় বার্ষিক আয়ের মধ্যে শিক্ষকতা পেশা থেকে আয় দেখিয়েছেন ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৩৩৩ টাকা, বাড়ি ভাড়া থেকে ৪৫ হাজার টাকা। তিনি আয়কর রিটার্নে সম্পত্তি দেখিয়েছেন ২৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকার। আয় কর দিয়েছেন ৩ হাজার টাকা। রাজনৈতিক মামলা ছিল ৫৭টি, এসব থেকে খালাস পেয়েছেন। তার স্ত্রী একজন গৃহিণী, তাই কোনো আয় নেই।

এ আসনের অন্য প্রার্থী বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টির আল আমিন। তিনি ব্যবসা থেকে আয় দেখিয়েছেন বছরে ২ লাখ টাকা। তাঁর সম্পত্তি আছে ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকার। স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারের আছে ১০ ভরি স্বর্ণ ও ২০ লাখ টাকার সম্পত্তি।