কামিকাজি ড্রোন নামটি সমরাস্ত্রের ইতিহাসে বেশ নতুন। নামটি এসেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে। সেই সময় জাপানি আত্মঘাতী পাইলটদের ‘কামিকাজি’ বলা হতো, যারা বিস্ফোরক ভর্তি বিমান নিয়ে শত্রুর জাহাজে আছড়ে পড়তেন। সেই ধারণা থেকেই এই ড্রোনের নামকরণ করা হয়েছে।
কামিকাজি ড্রোন হলো এমন এক ধরনের বিশেষ ড্রোন বা চালকবিহীন বিমান, যা লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি আছড়ে পড়ে নিজেকে ধ্বংস করার মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটায়। একে সামরিক পরিভাষায় ‘লোটারিং মিউনিশন’ বা ‘আত্মঘাতী ড্রোন’ বলা হয়।
এর প্রধান বৈশিষ্ট্য ও কার্যপদ্ধতি হলো একমুখী মিশন বা অভিযান পরিচালনা করা। সাধারণ ড্রোন হামলা চালিয়ে ফিরে এলেও, কামিকাজি ড্রোন শুধু একমুখী মিশনের জন্য তৈরি। এটি নিজেই একটি শক্তিশালী বোমা বা মিসাইল হিসেবে কাজ করে। হামলা করে নিজে ধ্বংস হয়ে যায়, ফিরে আসতে পারে না। এই ড্রোনের লোটারিং বা অপেক্ষা করার বিশেষ ক্ষমতা আছে। এটি আকাশে দীর্ঘ সময় ধরে চক্কর দিতে পারে (যাকে লোটারিং বলা হয়) এবং উপযুক্ত লক্ষ্যবস্তু খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে।
নির্ভুল লক্ষ্যভেদেও এর বেশ দক্ষতা আছে। জিপিএস, সেন্সর বা রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে এটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে সেটিতে আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্র কামিকাজি ড্রোন ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে বলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে এটি বেশ আগ থেকেই ব্যবহার করে ইরান। এমনকি গত বছরের জুনে ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাব দিতে গিয়ে ১২ দিনের যুদ্ধে এই ড্রোন ব্যবহার করেছিল তেহরান।
বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ইরানি শহীদ-১৩৬ ড্রোনের বা কামিকাজি ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। মার্কিন বাহিনী এমকিউ-৯ রিপারের মতো যেসব ড্রোন ব্যবহার করে সেগুলো খুবই ব্যয়বহুল। আবার ধ্বংসের ক্ষমতা খুব বেশি নয়। এর বিপরীতে কামিকাজি ড্রোন অত্যন্ত ব্যয় সাশ্রয়ী ও নিজে নিজে লক্ষ্য স্থির করে আঘাত হানতে পারে। কামিকাজি ড্রোন প্রথাগত মিসাইলের তুলনায় অনেক সস্তা ও ছোট আকারের হওয়ায় রাডারে ধরা পড়াও কঠিন।