রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পাটপণ্যকে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দিতে এবং নতুন সম্ভাবনার সুযোগকে কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, স্বল্পমূল্যে পাটের ব্যাগ তৈরি ও বিপণন করুন। বিশ্ব এখন টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের দিকে ঝুঁকছে। এ সম্ভাবনার সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। ‘জাতীয় পাট দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় পাট শিল্পের অগ্রগতি ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান হলো ১. পাটবীজ, পাট ও পাটজাত পণ্যের গবেষণায় সেরা গবেষক/বিজ্ঞানী/উদ্ভাবক ড. মো. নুরুল ইসলাম; ২. সেরা পাটবীজ উৎপাদনকারী চাষিতে মো. শাহানুর আলম সেন্টু; ৩. সেরা পাট উৎপাদনকারী চাষিতে মো. আব্দুস সামাদ ম-ল; ৪. পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী সেরা পাটকলে জুট মিলস লিমিটেড; ৫. পাটজাত পণ্য রপ্তানিকারক সেরা প্রতিষ্ঠান জুট মিলস লিমিটেডের হেলাল আহমেদ; ৬.পাটের সুতা উৎপাদনকারী সেরা পাটকল আকিজ জুট মিলস; ৭.পাটের সুতা রপ্তানিকারক সেরা প্রতিষ্ঠান আকিজ জুট মিলসের পরিচালক গোলাম মুর্শিদ বাপ্পী; ৮. বহুমুখী পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী সেরা পাটকল আকিজ জুট মিল; ৯. বহুমুখী পাটপণ্য রপ্তানিকারক সেরা প্রতিষ্ঠান ক্ল্যাসিকাল হ্যান্ডমেইড প্রোডাক্টস বিডি; ১০. বহুমুখী পাটপণ্যের সেরা মহিলা উদ্যোক্তা সিইও তরঙ্গ; ১১. বহুমুখী পাটজাতপণ্য উৎপাদনকারী সেরা পুরুষ উদ্যোক্তা মো. রাশেদুল করিম মুন্না এবং ১২. সেরা চারকোল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান প্যানসিয়া কার্বন লিমিটেড।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, টেকসই ও শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলতে কৃষি ও শিল্প দুই খাতেই আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। দেশকে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতা অপরিহার্য। চাষিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চ ফলনশীল পদ্ধতি অনুসরণ করে পাট চাষ করতে হবে। এতে উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষকরাও আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পাট থেকে আধুনিক, মানসম্মত ও ব্যবহার উপযোগী নতুন পণ্য উদ্ভাবনে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে সাশ্রয়ী মূল্যে পাটের ব্যাগ তৈরি ও এর বিপণন জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি।
সৃজনশীল তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশের পণ্যের নতুন বাজার সৃষ্টি করারও তাগিদ দেন। তার মতে, পাট বাংলাদেশের সমাজ, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও গৌরবের অংশ। অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি এই পাট। এটি একাধারে পণ্য, আবার শিল্পজাত ও রপ্তানি পণ্য। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ এবং পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাবের প্রেক্ষাপটে বাস্তবতায় পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে পাটের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে। বিশ্ব এখন টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের দিকে ঝুঁকছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় পাট ও পাটজাত পণ্য বাংলাদেশের সামনে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত করে দিয়েছে। এই সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।
বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, পাট আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ। আন্তর্জাতিক পরিসরে পাট শিল্প বাংলাদেশকে বিশেষভাবে পরিচিত করেছে। পাট ঘিরে নতুন এক বিপ্লবের সূচনা বাংলাদেশ থেকেই হতে পারে। তিনি বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্য কমাতে কার্যকর একটি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি পাটজাত পণ্যের ব্যবহারিক সুবিধা ও কার্যকারিতার দিকেও গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।