নাটোরের সিংড়ায় জ্বালানি তেল মজুদ রেখে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টির অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় ১০ হাজার লিটার তেল মজুদ রাখার অপরাধে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুর ২টায় সিংড়া পৌরসভার নিংগইন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা প্রশাসন।
জানা যায়, সিংড়া পৌরসভার নিংগইন ভাটোপাড়া মসজিদের দক্ষিণ পাশে বাঁশের ঝাঁড়ের মধ্যে মাটির নিচে পানির ট্যাংকি বসিয়ে জ্বালানি তেল সংরক্ষণ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল রিফাত অভিযান পরিচালনা করে মাটির নিচে ট্যাংকির মধ্যে ১০ হাজার লিটার তেল মজুদ পান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সিংড়া থানার মোড় এলাকার সততা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. রুবেলকে ১০ হাজার লিটার ডিজেল অন্যায়ভাবে সংরক্ষণ করে রাখার অপরাধে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন এবং আগামীকালের মধ্যে ডিজেল দোকানে স্থানান্তরের নির্দেশ প্রদান করেন।
মো. রুবেল নিংগইন ভাটোপাড়া মহল্লার মো. বেল্লাল হোসেনের ছেলে।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ, উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা মো. তাশরিফুল ইসলাম প্রমুখ।
অপরদিকে উপজেলার শেরকোল ও হাতিয়ান্দহ বাজারে অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৩৭.৩৮ ও ৪২ ধারা ভঙ্গের অপরাধে ৩ দোকানীকে ৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান দিপু।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এলাকার কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি দাম তেল বিক্রি করার পরিকল্পনা করছে এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে একজন ব্যবসায়ীকে পেট্রোলিয়াম আইন ২০১৬ অনুসারে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। তার মজুদের অনুমতি আছে, তবে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বেআইনিভাবে মজুদ করায় এ অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।