বিজেপির বিরুদ্ধে অনির্দিষ্টকালের অনশনে মমতা!

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে রাজ্যে বড় ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। তার দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাভাষী বহু ভোটারের নাম বাদ দিয়ে রাজ্যকে বিভক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আদালতের হস্তক্ষেপের আবেদনও জানান তিনি।

শনিবার (৭ মার্চ) কলকাতার ধর্মতলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন মঞ্চে বসে তিনি এই অভিযোগ তুলেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত থেকেই ধর্মতলায় উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিযোগে তিনি বলেন, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন মিলে বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু এই খবর জানিয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জুডিশিয়ারির কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, সাধারণ মানুষকে বিচার দিন। সবাইকে বিচার দিন। তিনি অভিযোগের আঙুল তুলে বলেন, নারী ভোটার, কৃষক, মতুয়া, রাজবংশী, সংখ্যালঘু সবার নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। অন্য দলের সমর্থনে নোংরা খেলা খেলছে। এরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে ভয় পায়! ঘরের মেয়েদের বাদ দিলে, কেউ রক্ষা করবে না।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বহু মানুষ সমস্ত বৈধ নথিপত্র দেখিয়েও ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম রাখতে পারেননি। তাঁর ভাষ্য, সব নথি দেখিয়েও লাভ হয়নি। তাই আপনাদের কাছে নথি দেখাতে এসেছে। বিচারের দাবিতে এরা এসেছে। মমতার অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে পরিকল্পিতভাবে নাম বাদ দিচ্ছে বিজেপি। কিন্তু তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নারীদের বাদ দিলে রক্ষে নেই।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, এক কোটি ২৫ লাখ মানুষ কাঁদছে। সব নথি থাকা সত্ত্বেও কেন তাদের ভোট ভ্যানিশ করা হলো? শুধু বিজেপির ভোট থাকবে? সাধারণ মানুষের ভোট থাকবে না?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন অভিযোগ করেন, ভোটের আগে পরিকল্পিতভাবে এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ভোটের একমাস আগে দখল করতে চাইছে। মনে রাখবেন, বাংলা তৈরি আছে। নোংরা খেলা খেললে বাংলা রেগে আছে। মনে রাখুন, দিল্লি বেশি দূরে নয়।

এদিন ভবানীপুরের ৪৩টি পরিবারের প্রতিনিধিরা ধর্ণামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এরা জীবিত মানুষ, অথচ কাগজে এদের মৃত দেখানো হয়েছে। চিন্তা করবেন না, আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। মানুষের পাশে না থাকলে কেউ থাকবে না।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বরে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬৩ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এটি মোট ভোটারের প্রায় ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৭ কোটি ৬৬ লাখ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৪ লাখে।

এছাড়া আরও প্রায় ৬০ লাখ ভোটারকে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা আইনি যাচাই-বাছাইয়ের তালিকায় রাখা হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে তাদের যোগ্যতা পরীক্ষা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়া শেষ হলে বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় ভোটের সমীকরণেও বড়সড় পরিবর্তন আসব।