প্রাপ্তিতে ভরা জীবন আমার

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সব বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে রুনা লায়লা এক গৌরবময় অধ্যায়ের নাম। অসংখ্য জনপ্রিয় গানের মাধ্যমে উপমহাদেশ জুড়ে সুরের সৌরভ ছড়িয়েছেন জীবন্ত এই কিংবদন্তি। প্রায় ছয় দশকের দেশ-বিদেশের বড় বড় ৩০০টিরও বেশি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। গানের পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে সুরকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেও পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। আজ বিশ্ব নারী দিবস। এ উপলক্ষে আলোকিত এই নারী কথা বলেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে। নারী দিবস নিয়ে এই বরেণ্য তারকা বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে, ব্যক্তিগতভাবে আমি যেমন নারীকে আলাদাভাবে দেখি না, তেমনি নারীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট দিনকে বেছে নিয়ে এটাকে “নারী দিবস” হিসেবে মানতে আমার দ্বিধা হয়। তারপরও প্রতিবছরই এ দিনটি নিয়ে অনেক টিভি চ্যানেল ও পত্রপত্রিকার সংবাদকর্মীরা আমার মতামত শুনতে চান। বিভিন্ন আয়োজনেও আমাকে অতিথি করা হয়, এমনকি কয়েক বছর ধরে নারী দিবসের বিশেষ সম্মননাও দেওয়া হচ্ছে আমাকে। সব মিলিয়ে ভালোই লাগে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি তো মনে করি, আমার জন্মই হয়েছে গানের জন্য, সংগীতের নানা শাখায় জড়িয়ে থাকার জন্য। আমাকে শিল্পী ছাড়া আর কোনোরূপেই পাওয়া যেত না। গান ছাড়া আমি আর কিছুই পারি না। মাঝে শিল্পী নামের একটি সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। এরপর অনেক সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব আসে। এখনো পাই। কিন্তু কখনো অভিনয় করা সম্ভব নয়। গান নিয়েই থাকতে চাই। অনেক ভালো ভালো কিছু সুর সৃষ্টি করে যেতে চাই।’

দেশীয় সংগীতের চলমান অবস্থা নিয়ে রুনা লায়লার ভাষ্য, ‘আমাদের দেশে কিন্তু মেধাবী অনেক শিল্পী আছেন। কিন্তু তাদের যথাযথভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না। তাদের কাজে লাগানো হচ্ছে না বলেই তাদের মেধার বিকাশ ঘটছে না। তারপরও কেউ কেউ আছেন নিজেদের মেধা বিকাশের জন্য নিজের মতো করেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তাদের সাধুবাদ জানাতেই হয়। তবে আমি বিশ্বাস করি, যেসব মেধাবী শিল্পী আছেন, তারা ভালো সুযোগ পেলে নিজেদের মেধা প্রকাশ করতে পারবেন। আবার এটাও সত্যি, এই প্রজন্মের শিল্পীদের মৌলিক গানের খুব অভাব। যে কারণে তাদের নির্দিষ্ট কয়েকটি গানের বাইরে আমাদের গানগুলোই তারা গান। নিজেদের মৌলিক গানের সংখ্যা বাড়াতে হবে।’

জীবনে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে বর্ষীয়ান এই সংগীতশিল্পী বলেন, ‘আমার জীবনে কোনো অপ্রাপ্তি নেই। বরং প্রাপ্তিতে ভরা আমার পুরো শিল্পী জীবন। এক জীবনে আমি সারা পৃথিবীব্যাপী মানুষের যে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, সম্মান পেয়েছি এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু থাকতে পারে না। মানুষের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় উপহার। এ উপহার নিয়েই আমি সুস্থ আছি, ভালো আছি। এটাই অনেক বড় সুখ আমার। পৃথিবীব্যাপী মানুষ আমাকে আমার গানকে ভালোবাসছে, এই ভালোবাসাটাই থাকুক আমার জীবন জুড়ে। মনেপ্রাণে মানুষের ভালোবাসা, দোয়ায় আমি পরিপূর্ণ। এখানে আমার অপূর্ণ কিছু নেই।’