রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় এক জামায়াত কর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার সাঁকোয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত মো. আলাউদ্দিন (৫৫) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল ফিতরের নামাজের ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে বিরোধ চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় জামায়াত নেতাদের দাবি, শনিবার রাতে ওই বিরোধের জেরে একদল সশস্ত্র হামলাকারী আলাউদ্দিনের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। হামলাকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আব্দুল খালেক ও সেক্রেটারি মো. গোলাম মুর্তজা। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘একটি ধর্মীয় বিষয়কে কেন্দ্র করে এই ধরনের কাপুরুষোচিত হামলা সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।’ তারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর থেকেই স্থানীয় প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের একটি পক্ষ জামায়াত কর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন যে, রাজশাহীর রাজনৈতিক পরিবেশ ঐতিহাসিকভাবে শান্তিপূর্ণ হলেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু দুষ্কৃতকারী অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তারা বর্তমান পরিস্থিতির জন্য স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সংশ্লিষ্টতার দিকেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
নিহত আলাউদ্দিনের পরিবার ও জামায়াত নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তারা ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে মো. ওমর ও রাইসুলসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের কথা জানা গেছে। জামায়াত নেতৃবৃন্দ এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং দ্রুত ন্যায়বিচারের মাধ্যমে এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।