বারবার কেবল পুরুষ কণ্ঠই কেন প্রাধান্য পায়? এমন প্রশ্ন তুলে লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন ভারতীয় গায়িকা শ্রেয়া ঘোষাল। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এই কণ্ঠশিল্পীর মতে, ভারতীয় সমাজ এবং সংগীত জগৎ আজও ‘পুরুষতান্ত্রিক’ মানসিকতা প্রবলভাবে গেঁথে রয়েছে।
শ্রেয়া জানান, বর্তমানের জনপ্রিয় মিউজিক চার্টগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, সেখানে মূলত পুরুষ গায়কদেরই জয়জয়কার। মহিলা সঙ্গীতশিল্পীদের জন্য জায়গা সেখানে খুবই সীমিত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন বারবার কেবল পুরুষ কণ্ঠই প্রাধান্য পায়? গান নির্বাচন থেকে শুরু করে প্রচারের আলো,সবক্ষেত্রেই নারীরা যেন কিছুটা পিছিয়ে থাকেন বা তাদের রাখা হয়।
শ্রেয়ার কথায়, ‘ভারত এখনও কিছুটা পুরুষতান্ত্রিক। সঙ্গীত জগতেও এর প্রতিফলন স্পষ্ট। মিউজিক চার্টগুলো দেখলেই বোঝা যায়, সেখানে পুরুষদের আধিপত্য কতটা বেশি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে দেখান তো চার্টে মেয়েদের গাওয়া ক’টা গান আছে! আমি তো খুব একটা খুঁজে পাই না। টপ ১০-এর কথা তো বাদই দিলাম, আপনি যদি সেরা ৫০টি গানের তালিকাও দেখেন, সেখানে বড়জোর ৬-৭টি গান মেয়েদের। বিষয়টা এখন এতটাই একপেশে হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের দেশে আগে কিন্তু এমনটা ছিল না। এই ভারসাম্যহীনতা খুব সম্প্রতি তৈরি হয়েছে।’
অতীতের উদাহরণ টেনে শ্রেয়া বলেন, ‘লতা মঙ্গেশকর বা আশা ভোঁসলেদের সময়টা দেখুন, কীভাবে তারা সেই যুগটাকে শাসন করেছেন! তাঁরা সমসাময়িক পুরুষ গায়কদের চেয়েও অনেক বড় তারকা ছিলেন। বছরে তাদের গানের সংখ্যাও ছিল প্রচুর। এখন সেই চিত্রটা বদলে গিয়েছে। আমার মনে হয় গত ১০ বছর ধরে আমরা একটা ঘোর বা বিভ্রান্তির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। তবে ফিউশন আর নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে করতে আশা করি আমরা আবার সেই স্বচ্ছতায় ফিরতে পারব।’
গায়িকার এই ক্ষোভ উঠে এসেছে সমাজমাধ্যমে। নেটিজেনদের মাধ্যমে এখন ভাইরাল শ্রেয়ার এই লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে করা মন্তব্য।