সিলেটে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে রেমিট্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আমাদের রেমিট্যান্সে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিছু প্রভাব তো পড়বেই। কারণ যুদ্ধের জন্য বাংলাদেশি শ্রমিকরা কাজে যেতে পারছেন না। তাদের মধ্যে ভয়ভীতি কাজ করছে। তবে রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের জন্য সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের নিরাপত্তায় অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

আজ রবিবার সিলেটের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আইনশঙ্খলা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে যেসব প্রবাসী আছেন তাদের নিরাপদে রাখা। তাদের লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়া। কেউ ইনজুরি হলে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তাদের দেশে আনার বিষয়েও চিন্তা করতে হচ্ছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে মনিটরিং সেল করা হয়েছে। প্রতিদিন পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা বাংলাদেশি তিন জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। তাদের মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা চলছে। তাদের পরিবারের সাথেও আমরা যোগাযোগ করছি।’

প্রবাসে বাংলাদেশের জন্য বন্ধ শ্রমবাজার চালু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেসব বাজার বন্ধ হয়ে গেছে, সেসব বাজার চালু করার চেষ্টা চলছে। এখন তো যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে তা সম্ভব হচ্ছে না। তাই আমরা পূর্বদিকে চেষ্টা করছি। রমজান ও যুদ্ধের কারণে এই কাজ এখন একটু স্লো। আশা করছি আগামী মাস থেকে তা আরও গতি পাবে।’

আইনশঙ্খলা কমিটির সভায় মন্ত্রী সিলেটে ছিনতাই প্রতিরোধ ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। সভায় পুলিশকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের সাদা পোষাকে টহল বাড়াতে হবে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। প্রত্যেক মার্কেটের সামনে সিসি ক্যামেরা নজরদারি বাড়াতে হবে। মা-বোনেরা সন্ধ্যার পরে মার্কেটের আসেন, তাই মার্কেটের ভেতরেও বিশেষত রাতে, নজরদারি বাড়াতে হবে। ডান-বাম না থাকিয়ে, কোন তদবির না শুনে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করুন। অপরাধীর জন্য কেউ তদবির করলে তাকেও গ্রেপ্তার করুন।’

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে সভায় সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা অংশ নেন।