যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল ইরান যুদ্ধ কার হাতে কত অস্ত্র

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বর্তমান বিশ্বের ভূ-রাজনীতিকে বিস্ফোরক মোড়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এই তিন শক্তির সামরিক সামর্থ্য, উন্নত প্রযুক্তি এবং রণকৌশল নিয়ে লিখেছেন অনিন্দ্য নাহার হাবীব

মধ্যপ্রাচ্য বহু বছর ধরেই বিশ্বের সবচেয়ে উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটছে। এই তিন শক্তির হাতে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমান, নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র। যদি একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হয়, তবে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রই বদলে দেবে না, বরং পুরো বিশ্বের রাজনীতি, অর্থনীতি এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত করে দেবে। ২০২৬ সালের গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স এবং সামরিক বিশ্লেষকদের তথ্যের ভিত্তিতে আমরা এই তিন দেশের সামরিক শক্তির একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরব।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর অধিকারী এবং ২০২৬ সালের গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্সে তারা প্রথম স্থানে রয়েছে। তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বিশ্বের মোট সামরিক ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ। এই বিপুল অর্থ দিয়ে দেশটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তি গবেষণা এবং বাহিনীর আধুনিকায়ন বজায় রাখে। যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় সৈন্য সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ এবং রিজার্ভ মিলিয়ে মোট সংখ্যা ২১ লাখেরও বেশি। এই বিশাল বাহিনী বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে দ্রুত মোতায়েন করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।

আমেরিকার আকাশ শক্তি এককভাবে অতুলনীয়। তাদের যুদ্ধবিমান বহরে রয়েছে এফ থার্টি ফাইভ লাইটনিং টু, এফ টুয়েন্টি টু র‌্যাপ্টর এবং বি টু স্পিরিট স্টেলথ বোমারু বিমানের মতো অত্যাধুনিক যান। এগুলো রাডারের চোখ ফাঁকি দিতে সক্ষম এবং অত্যন্ত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সজ্জিত। মার্কিন নৌবাহিনীতে রয়েছে ১১টি পারমাণবিক চালিত এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার বা বিমানবাহী রণতরী এবং অসংখ্য যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন। এই নৌশক্তি পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে আধিপত্য বিস্তারে প্রধান ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া তাদের হাতে রয়েছে ৫০০০-এর বেশি পারমাণবিক অস্ত্র, যা মিনিটম্যান থ্রি এবং ট্রাইডেন্ট টু ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে নিক্ষেপ করা যায়। সাইবার যুদ্ধ ও স্যাটেলাইট নজরদারিতেও যুক্তরাষ্ট্র সবার চেয়ে এগিয়ে। তাদের গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম এবং রিয়েল টাইম ইন্টেলিজেন্স যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর অবস্থান নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করতে সাহায্য করে।

ইসরায়েলের আধুনিক সমরসম্ভার

ইসরায়েল আয়তনে ছোট দেশ হলেও তাদের সামরিক সক্ষমতা অত্যন্ত উন্নত ও আধুনিক। ২০২৬ সালের বৈশ্বিক সূচকে তারা শীর্ষ ১৫টি দেশের মধ্যে অবস্থান করছে। ইসরায়েলের সক্রিয় সৈন্য সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার হলেও বাধ্যতামূলক সামরিক চাকরির কারণে তাদের রিজার্ভ বাহিনীর সংখ্যা ৪ লাখ ৬৫ হাজারেরও বেশি, যারা অত্যন্ত অল্প সময়ে যুদ্ধে অংশ নিতে পারে। ইসরায়েলের বার্ষিক প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ৩৫ থেকে ৪৬ বিলিয়ন ডলার, যা আমেরিকার সামরিক সহায়তা ও প্রযুক্তিগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হয়েছে।

ইসরায়েলি বিমান বাহিনীতে রয়েছে ৬০০-এর বেশি উন্নত যুদ্ধবিমান, যার মধ্যে এফ থার্টি ফাইভ আদির এবং এফ ফিফটিন ঈগল প্রধান। ড্রোন প্রযুক্তিতে ইসরায়েল বিশ্বের অন্যতম পথিকৃৎ; তাদের তৈরি হার্মিস নাইন হান্ড্রেড এবং আইএআই হেরন ড্রোন নজরদারি ও আক্রমণে সমান পারদর্শী। তবে ইসরায়েলের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো তাদের বহুমুখী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। আয়রন ডোম স্বল্প পাল্লার রকেট ঠেকায়, ডেভিডস স্লিং মাঝারি পাল্লার এবং অ্যারো থ্রি দীর্ঘ পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম। এ ছাড়া তাদের হাতে আনুমানিক ৯০ থেকে ৪০০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। মোসাদের মতো গোয়েন্দা সংস্থা এবং ইউনিট এইট থাউজেন্ড টু হান্ড্রেডের মতো সাইবার বাহিনী তাদের শক্তির অন্যতম উৎস। তাদের গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক এতটাই বিস্তৃত যে, তারা শত্রুর অন্দরমহলের খবর মুহূর্তেই সংগ্রহ করতে পারে।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি

ইরানের সামরিক শক্তি মূলত সংখ্যাধিক্য এবং অসম যুদ্ধের কৌশলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের সূচকে তারা ১৬তম অবস্থানে রয়েছে। ইরানের সক্রিয় সৈন্য সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার, যা ইসরায়েলের তুলনায় অনেক বেশি। ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি যৌথভাবে কাজ করে। আইআরজিসি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রক্সি গ্রুপ যেমন হিজবুল্লাহ ও হুথিদের নিয়ন্ত্রণ করে, যা তাদের আঞ্চলিক যুদ্ধের সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের বিশাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার। তাদের কাছে প্রায় ১৫০০ থেকে ৩০০০-এর বেশি উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। সেজ্জিল, খোররামশাহর এবং ফাত্তাহ ওয়ানের মতো ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ২০০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। ইরান বর্তমানে ড্রোন প্রযুক্তিতেও বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে; তাদের শাহেদ ওয়ান থার্টি সিক্স ড্রোনগুলো সস্তা হলেও অত্যন্ত কার্যকর। নৌবাহিনীতে তারা ছোট কিন্তু দ্রুতগামী মিসাইল বোট এবং সাবমেরিন ব্যবহার করে, যা হরমুজ প্রণালিতে গেরিলা আক্রমণের মাধ্যমে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিতে সক্ষম। যদিও ইরানের হাতে বর্তমানে কোনো পারমাণবিক বোমা নেই, তবে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগের প্রধান কারণ। তাদের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র শহরগুলো বা মিসাইল সিটিস আকাশপথের আক্রমণ থেকে তাদের অস্ত্রাগারকে সুরক্ষিত রাখে।

আঞ্চলিক মিত্ররা

ইরানের শক্তির একটি বিশাল অংশ কাজ করে তাদের সীমানার বাইরে। লেবাননের হিজবুল্লাহর কাছে প্রায় দেড় লাখ রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখতে সক্ষম। ইয়েমেনের হুথিরা লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘœ ঘটিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন আরব দেশের সঙ্গে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস বা অনানুষ্ঠানিক গোয়েন্দা সহযোগিতার মাধ্যমে একটি আঞ্চলিক জোট তৈরি করেছে। যুদ্ধে জর্দান বা সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার করা নিয়ে যে ভূ-রাজনৈতিক মারপ্যাঁচ রয়েছে, তা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। রাশিয়া ও চীন ইরানের বড় অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগী। রাশিয়ার সু থার্টি ফাইভ যুদ্ধবিমান বা এস ফোর হান্ড্রেড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যদি ইরানের হাতে পৌঁছায়, তবে ইসরায়েলের বিমান হামলা চালানো অনেক কঠিন হয়ে পড়বে।

সাইবার যুদ্ধ ও অদৃশ্য রণক্ষেত্র

আধুনিক যুদ্ধে বন্দুকের গুলির চেয়েও কার্যকর হতে পারে কম্পিউটারের কোড। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সাইবার আক্রমণে অত্যন্ত পারদর্শী। অতীতে স্টাক্সনেট ভাইরাসের মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা অকেজো করার ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে আলোচিত। বর্তমান সময়ে ইসরায়েলের ইউনিট এইট থাউজেন্ড টু হান্ড্রেড ইরানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, ব্যাংকিং সেক্টর এবং সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা হ্যাক করার সক্ষমতা রাখে। পাল্টা জবাবে ইরানও তাদের সাইবার ড্রাইভ বাড়িয়েছে। তারা ইসরায়েলের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোতে ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে। এই অদৃশ্য যুদ্ধের মাধ্যমে যুদ্ধের শুরুতেই এক পক্ষ অন্য পক্ষকে পঙ্গু করে দিতে পারে।

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে কোনো সাধারণ সীমান্ত নেই। তাদের মধ্যকার দূরত্ব প্রায় এক হাজার থেকে পনেরোশ কিলোমিটার। এই দূরত্বের কারণে পদাতিক বাহিনীর মুখোমুখি যুদ্ধের সম্ভাবনা খুবই কম। যুদ্ধ হবে মূলত আকাশে এবং সমুদ্রপথে। ইসরায়েলি বোমারু বিমানগুলোকে ইরানে হামলা চালিয়ে নিরাপদে ফিরে আসতে হলে মাঝপথে জ্বালানি নেওয়ার প্রয়োজন হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য ছাড়া প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে ইরানকে নির্ভর করতে হবে তাদের ড্রোনের ঝাঁক এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর। ইরানের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি এবং মাটির গভীরে তৈরি বাঙ্কারগুলো ধ্বংস করা যেকোনো আধুনিক বাহিনীর জন্যই একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ।

বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সংকট

এই তিন শক্তির সংঘাত কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে। তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে গেলে উন্নত ও উন্নয়নশীল সব দেশের অর্থনীতিতেই ধস নামবে। মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছাবে এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়বে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো যারা মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল, তারা ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে। এই অর্থনৈতিক চাপই শেষ পর্যন্ত বড় শক্তিগুলোকে যুদ্ধ বিরতিতে বাধ্য করার অন্যতম কারণ হতে পারে।

যদি একটি সর্বাত্মক যুদ্ধ বাধে, তবে আকাশপথের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের স্টেলথ প্রযুক্তির কারণে এগিয়ে থাকবে। তারা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে। তবে ইরানের কৌশল হবে ‘অ্যাটট্রিশন ওয়ারফেয়া’ বা ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধ। তারা তাদের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার থেকে কয়েক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র একসঙ্গে নিক্ষেপ করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে স্যাচুরেটেড বা অকেজো করার চেষ্টা করবে। ড্রোনের ব্যবহার করে তারা আকাশপথকে এমনভাবে ব্যস্ত রাখবে, যাতে ইসরায়েলের ইন্টারসেপ্টরগুলো শেষ হয়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে ইরান তাদের প্রক্সি বাহিনীর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোকে ব্যতিব্যস্ত রাখবে, যা আমেরিকান জনমতে যুদ্ধের বিরুদ্ধে চাপ তৈরি করবে।

প্রযুক্তি ও বাজেটের বিচারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অনেক এগিয়ে থাকলেও ইরানের বিশাল ভূখণ্ড এবং তাদের প্রক্সি নেটওয়ার্ক যুদ্ধকে অত্যন্ত জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি করে তুলবে। সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য থাকলেও ইরান তাদের সস্তা কিন্তু কার্যকর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সেই আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। এই সংঘর্ষ শুরু হলে তা কেবল এই তিনটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং রাশিয়া ও চীনের পরোক্ষ অংশগ্রহণে এটি একটি আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক মহাযুদ্ধে রূপ নিতে পারে। ধ্বংসলীলা, প্রাণহানি এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়ানোর একমাত্র পথ হলো কার্যকর কূটনীতি। ইতিহাসের পাতায় অনেক যুদ্ধই ছোট ভুল থেকে শুরু হয়েছে, কিন্তু এই তিন শক্তির লড়াই শুরু হলে তা যে পৃথিবীর জন্য একটি মহাপ্রলয় হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।