৫ রাষ্ট্রদূতকে অতিসত্বর ফিরতে বলা হলো

সরকার বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোয় রাষ্ট্রদূতসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে বড় রকম রদবদল শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে গতকাল রবিবার পাঁচটি দেশ থেকে রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের অবিলম্বে দেশে ফিরতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকার গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই পাঁচ মিশনপ্রধানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি এবং অতিসত্বর দেশে ফিরতে নির্দেশ দেওয়ার কথা জানায়। যাদের দেশে ফিরতে বলা হয়েছে, তারা হলেন যুক্তরাজ্যে হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম, পর্তুগালে রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, পোল্যান্ডে রাষ্ট্রদূত মো. ময়নুল ইসলাম, মেক্সিকোতে মুশফিকুল ফজল আনসারী ও মালদ্বীপে হাইকমিশনার ড. এম নজরুল ইসলাম।

এই পাঁচ রাষ্ট্রদূতের মধ্যে আবিদা ইসলাম ছাড়া অন্য চারজনকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে মিশনপ্রধান হিসেবে পদায়ন করা হয়।

আবিদা ইসলাম বিসিএস ১৫তম ব্যাচে পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা। লন্ডনে হাইকমিশনার হিসেবে পদায়নের আগে তিনি মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়ায় রাষ্ট্রদূত, কলকাতায় উপ-হাইকমিশনার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। 

রাষ্ট্রদূত হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আগে ড. মোহাম্মদ মাহফুজুল হক বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কাজ করে সিনিয়র সচিব হিসেবে অবসরে গিয়েছিলেন। মো. ময়নুল ইসলাম পুলিশ মহাপরিদর্শক হিসেবে অবসরে গিয়েছিলেন। মুশফিকুল ফজল আনসারী সাংবাদিক ছিলেন। ড. এম নজরুল ইসলাম তুরস্কে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন।

কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই পাঁচ মিশনপ্রধান দেশে ফেরার পর আবিদা ইসলাম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সচিব হিসেবে কাজ করতে পারেন। অন্য চারজনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

সরকারি একাধিক সূত্র জানায়, নিয়মিত পেশাদার কূটনীতিকদের মধ্যে যারা ছয় বছরের বেশি বিদেশে বিভিন্ন মিশনে কর্মরত আছেন, সরকারি অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে যাদের চাকরি ইতিপূর্বে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করে বিদেশে পদায়ন করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগ পেয়ে বিদেশে কর্মরত আছেন, এমন সবার তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে তাদের সবাইকে দেশে ফিরিয়ে আনা অথবা বদলি করা হতে পারে।