নেত্রকোনার মদনে নেশার টাকার জোগাড় করতে শ্বশুরের বসতঘর থেকে স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগে জামাতা ও তার বাবাকে আটক করেছে পুলিশ।।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান।
এর আগে গতকাল রবিবার (৮ মার্চ) রাতে মদন পৌরসভার শ্যামলী রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের আটক করেছে পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন— ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মধ্যবাজার এলাকার বরুণ চন্দ্র কর্মকার (৪৫) ও তার ছেলে তরুণ চন্দ্র কর্মকার (২২)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের পরিচ্ছন্নতা কর্মী অমূল্য চন্দ্র দাসের মেয়ের সঙ্গে তরুণের বিয়ে হয়। বিয়ের দুই মাস পর তরুণ তার স্ত্রী ও বাবাকে নিয়ে মদনে চলে আসেন এবং শ্বশুরের বাসার পাশেই একটি ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। তরুণের বাবা বরুণ মদন পৌরসভার একটি জুয়েলারি দোকানে কাজ করেন।
ভুক্তভোগী অমূল্য চন্দ্র দাস জানান, তার জামাতা তরুণ মাদকাসক্ত। বিয়ের পর সে তার স্ত্রীর সব গহনা বিক্রি করে দেয়। গত এক সপ্তাহ আগে বাবা ও ছেলে মিলে অমূল্য চন্দ্রের ঘর থেকে প্রায় লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যায়। রবিবার রাতে পুনরায় নেশার টাকার জন্য তারা গহনা চুরি করতে গেলে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে যায়।
আটক বরুণ চন্দ্র কর্মকার চুরির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, "টাকার চাপ থাকায় স্বর্ণালংকার নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছি। এটা করা আমাদের ঠিক হয়নি।"
অন্যদিকে তরুণ চন্দ্র কর্মকার জানান, তিনি আগে ইয়াবা সেবন করলেও এখন ছেড়ে দিয়েছেন। তবে তার বাবা এক সপ্তাহ আগে স্বর্ণালংকার চুরি করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান জানান, চুরির ঘটনায় বাবা ও ছেলেকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।