ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পরিবারের অন্তত আটজন সদস্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় নিহত হয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া বিমান হামলায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মোজতবা খামেনির বাবা, মা, স্ত্রী, ছেলে, বোন, ভাগ্নে, ভাগ্নি ও ভগ্নিপতি।
জানা গেছে, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় আধ্যাত্মিক নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের ৮৮ সদস্যের আলেম গোষ্ঠী (ক্লারিক বডি) ভোট দিয়ে খামেনির মেঝ ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে। তবে ভোটের ব্যবধান প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বছরের পর বছর ধরে রেভোলিউশনারি গার্ডসের কমান্ড কাঠামো ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত ছিলেন।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমান হামলায় প্রথমে নিহত হন মোজতবা খামেনির স্ত্রী জোহরা হাদ্দাদ-আদেল ও তাদের দুই ছেলের মধ্যে একজন। এই দম্পতির একটি মেয়েও রয়েছে। পরবর্তীতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি মারা যান। এ হামলায় গুরুতর আহত হন খামেনির স্ত্রী ও মোজতবার মা মনসুরেহ খোজাস্তে বাঘেরজাদেহ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরে আরও চার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় নিহত হন। তবে নাম প্রকাশ করেনি ইরানি গণমাধ্যম। ফলে নতুন সর্বোচ্চ নেতার পরিবারের নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আটজনে।
মোজতবা খামেনির ক্ষমতা গ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নতুন নেতা নির্বাচন প্রসঙ্গে কড়া মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্প রবিবার এবিসি নিউজকে বলেন, যদি সে আমাদের কাছ থেকে অনুমোদন না পায়, তবে সে খুব বেশিদিন টিকবে না। সোমবার টাইমস অফ ইসরায়েলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘দেখা যাক কী হয়!’
অপরদিকে ইসরায়েল আগেই হুমকি দিয়েছিল যে, ইরানের নতুন নেতা যাকে নির্বাচিত করা হবে তাকেই আক্রমণ করবে তারা। তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণার পর এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইসরায়েল।
সুপ্রিম লিডার হিসেবে মোজতবা এখন ইরানি শাসনের প্রতিটি অঙ্গের ওপর চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী। এই পদটি মোটেও আনুষ্ঠানিক নয়। তিনি দেশের সামরিক বাহিনী, বিচার বিভাগ, প্রচার মাধ্যম ও নির্বাচনী কাঠামোর সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।