খুলনা-সাতক্ষীরা জাতীয় মহাসড়কে গত বর্ষায় ৮ কিলোমিটার এলাকায় ইটের সলিং বসানো হয়েছিল। কিন্তু এক বছর অতিক্রান্ত হলেও সেখান থেকে ইট সরিয়ে কার্পেটিং করা হয়নি। ফলে ইট ভেঙে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে এবং গর্ত এড়াতে গিয়ে অনেক সময় ভুল লেনে চলে যাচ্ছে, যা দুর্ঘটনার কবলে ফেলছে। শুধু এই ৮ কিলোমিটারই নয়, মহাসড়কের আরও প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশে পিচ সরে গিয়ে ঢেউয়ের মতো উঁচু-নিচু হয়ে গেছে। এ ছাড়া চুকনগর বাজারসংলগ্ন এলাকা ও খুলনা পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের সামনে কমপক্ষে আরও এক কিলোমিটার সড়ক চরম বেহাল অবস্থায় রয়েছে।
ঈদের ছুটি শুরু হতে আর সপ্তাহখানেক বাকি। শিগগিরই ঘরমুখো মানুষের ঢল নামবে এই সড়কে। তখন যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। কিন্তু সড়কের এই করুণ অবস্থা ঘরমুখো মানুষের জন্য সীমাহীন দুর্ভোগ, ভোগান্তি ও তীব্র দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা অংশের ৩৩ কিলোমিটার সড়ক ২০১৮-২০ সালে ১৮ থেকে ৩৬ ফুট প্রশস্ত করা হয়। কিন্তু নির্মাণের এক বছরের মধ্যেই গর্ত ও উঁচু-নিচু দেখা দেয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোজাহার এন্টারপ্রাইজ তিন বছর মেরামত করলেও পরে সওজ নিজস্ব অর্থায়নে কাজ চালিয়ে যায়।
গত বছর বর্ষায় ১৬ কিলোমিটার সড়ক পুরোপুরি খারাপ হয়ে পড়ে। তখন যান চলাচল সাময়িকভাবে স্বাভাবিক রাখতে হোগলাডাঙ্গা পাওয়ার গ্রিডের সামনেসহ দুটি স্থানে যথাক্রমে ৫৮ ও ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কার্পেটিং করা হয়। পাশাপাশি প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ কিলোমিটার খারাপ অংশে ইটের সলিং বসানো হয়।
এ ছাড়া বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অংশে স্থায়ী মেরামতের জন্য ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে জিরো পয়েন্ট মোড়ে ১২ মিটার আরসিসি ঢালাই দেওয়া হয়েছে। চুকনগর মোড় থেকে খুলনা অভিমুখে ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ এখনো চলমান।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, রাজবাঁধ এলাকা, গুটুদিয়া বাঁক থেকে ডুমুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের মধ্যবর্তী অংশ, বালিয়াখালি ও টিপনার বাঁক, কাঁঠালতলা থেকে চুকনগর বাজারের মধ্যবর্তী এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ইটের সলিং বসানো হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ জায়গায় ইট ভেঙে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বেশিরভাগ স্থানে বিটুমিন দলা বেঁধে উঁচু-নিচু, ঢেউখেলানো ও এবড়োখেবড়ো হয়ে গেছে। চুকনগর স্ট্যান্ড থেকে চাকুন্দিয়া পর্যন্ত এবং নিচখামার রেলক্রসিংয়ের দুপাশে অত্যন্ত খারাপ অবস্থা; বড় বড় গর্তের কারণে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।