অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নারী কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কার্যকরভাবে আলোর মুখ দেখেনি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। তিনি বলেন, এ ব্যর্থতার দায় কমিশনের নয়, বরং সরকারের। এ ছাড়া সংবিধান সংস্কারের আলোচনায় রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে পাঁচ শতাংশ নারী প্রার্থী দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে কোনো রাজনৈতিক দলই সেই সিদ্ধান্ত মেনে চলেনি।
গতকাল সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি শফিকুল কবির মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ‘নারী ও কন্যাশিশুর আগামীর ন্যায়বিচার ও সুরক্ষা নিশ্চিতে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, নারীদের এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো ছাড়া অন্য অনেক দল একমত হয়নি। অথচ নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তিনি বলেন, সমাজ, অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতিটি স্তরে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নারীর মুক্তি নিশ্চিত হলেই প্রকৃত অর্থে সমাজের মুক্তি সম্ভব।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম বলেন, দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নারী নির্যাতনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০টি মামলায় মৃত্যুদ-ের রায় দেওয়া হলেও একটি রায়ও কার্যকর হয়নি। ফলে অপরাধীরা শাস্তির ভয় পায় না এবং সহিংসতার ঘটনা কমার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে বেড়েই চলেছে।
নগরবিদ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, নারীদের জনশক্তি হিসেবে রাষ্ট্র ও সমাজের মূল চালিকাশক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার সংস্কৃতিই আমাদের দেশের নারী সমাজকে ধীরে ধীরে পশ্চাৎপদতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে গ্রীন ভয়েস- এর প্রধান সমন্বয়ক আলমগীর কবির বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া আন্দোলন সফল করা সম্ভব হতো না। বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও বাস্তবে তারা সবসময় অবহেলিতই থেকে গেছেন।