জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান

সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের সীতাকু-ের আলোচিত জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় গতকাল সোমবার ভোর ৬টায় সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে যৌথ বাহিনী। যতদিন প্রয়োজন ততদিন অভিযান চলবে বলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে, তবে দাগি সন্ত্রাসী ধরা পড়েনি; অস্ত্রও উদ্ধার হয়নি।

জঙ্গল সলিমপুরে এখন থেকে দুটি তল্লাশিচৌকি থাকবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আহসান হাবীব। গতকাল দুপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলাকালে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। ডিআইজি আহসান হাবীব বলেন, ‘সন্ত্রাস দমনে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় প্রয়োজনে কামান লাগলে কামান দেব।’

জানা গেছে, গতকাল ভোর ৬টায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিত অভিযান শুরু করে। অভিযানে তিন হাজারের বেশি সদস্য অংশ নেন। পাহাড়ি ও দুর্গম এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীরা অবস্থান করছে, অবৈধ অস্ত্র মজুদ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা আত্মগোপন করে আছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কথাও জানা গেছে, অভিযানের খবর পেয়ে ওই এলাকার একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ রবিবার রাতেই আলী নগর এলাকার রাস্তায় বড় ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখে এবং একটি কালভার্ট ভেঙে ফেলে। ফলে অভিযানে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে যৌথ বাহিনীর সদস্যদের।

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছিন্নমূল ও আলীনগর জঙ্গল সলিমপুরেরই অংশ। ছিন্নমূলের পরে আলীনগর। ছিন্নমূল যাওয়ার পর আলীনগরে ঢোকার আগে রাস্তায় ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড দেয় সন্ত্রাসীরা। যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ব্যারিকেড সরিয়ে সামনে এগোয়। এর কিছু দূরে, সম্ভবত রাতের আঁধারে, একটি কালভার্ট ভেঙে ফেলা হয়। কালভার্টের ওই অংশ ইটবালি দিয়ে ভরাট করে যৌথ বাহিনীর গাড়ি আলীনগরে ঢোকে।’

পুলিশ জানায়, সোমবার সকালে জঙ্গল সলিমপুরের চারপাশ ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে বসানো হয় তল্লাশি চৌকি, যাতে অভিযান শুরুর পর কেউ পালিয়ে যেতে না পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে অভিযানে অংশ নেন।

ডিআইজি আহসান হাবীব সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। র‌্যাব, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও এপিবিএনের ৩ হাজার ২০০ সদস্য অংশ নিচ্ছেন। আমরা এখানে সোমবার ভোর থেকে কাজ করছি। আমাদের মূল ফোকাস ছিল এখানে আমাদের আইনসংগত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা এবং আমরা সেটি করতে পেরেছি। সোমবার থেকে পুলিশ ও র‌্যাবের দুটি ক্যাম্প এখানে কাজ করবে। ক্যাম্পের নিরাপত্তা বিধানে যদি এখানে কামান দেওয়া লাগে আমরা তা দেব।’

জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘদিনের প্রতিবন্ধকতা দূর হওয়ায় এখন সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ উন্মুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। গতকাল দুপুরে সলিমপুরের প্রবেশমুখে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

জিয়াউদ্দীন বলেন, ‘এই এলাকার উন্নয়নের জন্য সরকার যে পরিকল্পনাগুলো গ্রহণ করেছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত সহযোগিতায় সে বাধা দূর হয়েছে। এখন সরকার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য নিয়মিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।’

পুলিশ জানায়, জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের দুটি পক্ষ। একটি পক্ষের নেতৃত্বে আছে মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং অন্যপক্ষে আছে রোকন উদ্দিন। ইয়াসিন গত জানুয়ারিতে ওই এলাকায় অভিযানে যাওয়া এক র‌্যাব কর্মকর্তাকে হত্যার মামলার প্রধান আসামি। জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় তার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ। গত জানুয়ারি মাসে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন র‌্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। এ ঘটনায় সীতাকু- থানায় মামলা করে র‌্যাব-৭। মামলায় মোহাম্মদ ইয়াসিন ছাড়াও ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয়ের আরও ২০০ জনকে।