সমুদ্রের বিশালতার প্রায় ৯৫ শতাংশই মানুষের অজানা। ভূপৃষ্ঠের ৭০ শতাংশ সমুদ্রের অন্তর্গত। গভীর সমুদ্রের অন্ধকার, তীব্র চাপ ও অজানা অদ্ভুত প্রাণী, মারিয়ানা ট্রেঞ্চ বা চ্যালেঞ্জার ডিপের মতো গভীরতম স্থান এবং ‘দ্য ব্লুপ’-এর মতো রহস্যময় শব্দের উৎস, আজও বিজ্ঞানীদের কাছে বড় ধাঁধা। সমুদ্রের প্রায় ২০ লাখ প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে, বিজ্ঞানীরা মাত্র ২ লাখ ৩০ হাজার প্রজাতি সম্পর্কে জানেন। বাকিরা গভীর অন্ধকারে লুকিয়ে । প্রায় ২০০ মিটার (৬৬০ ফুট) গভীরের পর আলো পৌঁছায় না, যেখানে পানির প্রচণ্ড চাপ ও শীতল তাপমাত্রা রয়েছে। ১৯৯৭ সালে প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে একটি প্রচণ্ড শক্তিশালী শব্দ শনাক্ত করা হয়েছিল, যা কোনো প্রাণীর নাকি অন্য কিছু, তা নিয়ে রহস্য আজও কাটেনি। স্থলভূমির মতোই সমুদ্রের তলদেশে আগ্নেয়গিরি, পর্বত ও গিরিখাত রয়েছে, যার অধিকাংশ এখনো মানচিত্রভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। মানুষ মহাকাশ সম্পর্কে যতটা জানে, সমুদ্রের গভীর তলদেশ সম্পর্কে তার চেয়ে অনেক কম জানে। তবে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, গভীর সমুদ্রের তলদেশে একটি বিশাল জলপ্রপাত রয়েছে। যা পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্তম জলপ্রপাতের চেয়েও প্রায় ৪ গুণ বড়। তবে বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্যের বিষয় হলো, সমুদ্রের তলে কীভাবে জলপ্রপাতের অস্তিত্ব বিদ্যমান? এর উত্তর তারা আজও জানতে পারেননি। যে কারণে এটি এখনো বিশাল রহস্য হয়েই আছে।