ঈদের বাজারেও যুদ্ধের ধাক্কা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ঈদের বাজারে এবার ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ক্রেতারা হিসেব করে কেনাকাটা করছেন। ব্যবসায়ীরাও বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বাজারে পড়েছে। অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে, কিছু পণ্যও কম এসেছে। ফলে ঈদের বাজারে উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি দামের চাপও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ শহরে এসেছেন। শহরের প্রধান সড়ক কাউতলী থেকে মেড্ডা পর্যন্ত রাস্তার আশপাশে বেশির ভাগ বিপণিবিতানের অবস্থান। গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত শহরের আশিক প্লাজা মার্কেট, পৌর আধুনিক সুপার মার্কেট, পুরাতন কোর্ট রোডের সিটি শপিং সেন্টার, ফরিদ উদ্দিন আনোয়ার টাওয়ার, ফরিদুল হুদা সড়কের বি. বাড়িয়া টাওয়ার, সড়ক বাজারের নিউ মার্কেট ও টানবাজারের হকার্স মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। তুলনামূলক নারী ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন বিপণিবিতানে আলোকসজ্জার পাশাপাশি বাহারি রঙের পোশাক সাজিয়ে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।

গত শুক্রবার রাতে দেড় বছরের ছেলে মীর ফারাজ, ১৪ বছরের মেয়ে মীম আক্তার, ১১ বছরের মেয়ে মোনা আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে কুয়েত প্রবাসী মীর শাকিলের স্ত্রী মীর মুন্নি আক্তার ফরিদ উদ্দিন টাওয়ারের লাইক ফ্যাশন হাউজে আসেন কেনাকাটা করতে। আলাপকালে তিনি বলেন, ‘ছোট মেয়ে ও ছোট্ট ছেলের জন্য কাপড় কিনতে পেরেছি। বাকি রয়েছে বড় মেয়ে। ঘুরে ঘুরে দেখছি যদি পছন্দ হয় কিনে নেব।’ এ সময় তিনি দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, ‘এ বছর কাপড়ের দাম অনেক বেশি। স্বামী কুয়েত থাকে, সেখানেও যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। খুব বেশি টাকা পাঠাতে পারেনি। যখন স্বামীর সঙ্গে কথা বলি তখন সে দেশের যুদ্ধের কথা শুনলে ভয় লাগে। বাচ্চারা তো আর যুদ্ধ বুঝে না। তাদের জন্যই মার্কেটে আসতে হয়েছে। তবে এবার আমি নিজের জন্য কিছুই কিনছি না।’

পুরাতন কোর্ট রোডের ফরিদ উদ্দিন আনোয়ারা টাওয়ারের চতুর্থ তলায় দেশীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুম আছে। এর মধ্যে শৈশব, দর্জিবাড়ি, ম্যানস ওয়ার্ল্ড, আমব্রেলা, ক্লোজেন ও ম্যানস ওয়ার্ল্ড ট্রেন্ডি উল্লেখযোগ্য। তৃতীয় তলায় আছে লাইক ফ্যাশন ওয়্যার ও নাইন জিরো। এ ছাড়া এফএ টাওয়ার-সংলগ্ন এলেন কোর্ট ভবনের নিচতলায় এপেক্স, সড়ক বাজারে প্লাস পয়েন্ট, ডা. ফরিদুল হুদা সড়কে ইনফিনিটি মেগামল এবং পাইকপাড়া এলাকায় জেন্টল পার্কের শোরুমেও ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়। সড়ক বাজারের বিলাসী মেগামল, শাড়ি বিচিত্রা, রঙবেরঙ, কমলালয় ও ইলোরাতেও ক্রেতাদের আনাগোনা লক্ষ করা গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ছোট শিশু থেকে শুরু করে বড়দের ফারসি কামিজ, গাউন, আফগানি থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা ও পার্টি পোশাকের চাহিদা বেশি। ফারসি কামিজ ৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা, গাউন ৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা, থ্রি-পিস দেড় থেকে ১২ হাজার টাকা এবং লেহেঙ্গা ৪ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া শিশুদের শার্ট ৬০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা এবং মেয়েশিশুদের পোশাক ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। ছেলেদের দেশি পাঞ্জাবি দেড় হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা এবং ভারতীয় পাঞ্জাবি ২ হাজার ১৫০ টাকা থেকে ১৭ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

লাইক ফ্যাশন ওয়্যারের স্বত্বাধিকারী আরমানুল হক বলেন, ঈদের বাজারের বেচাকেনা মোটামুটি ভালো। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ক্রেতাদের ভিড় বেশি থাকে। মেয়েদের ফারসি কামিজ, গাউন, থ্রি-পিস ও লেহেঙ্গার পাশাপাশি পাকিস্তানি থ্রি-পিস ও ভারতীয় বুটিকসের চাহিদা বেশি। মেয়েশিশুদের আফগানি পোশাক, হীরামান্ডি ও ফারসি কাটও ভালো বিক্রি হচ্ছে। পুরুষদের পাঞ্জাবি বিক্রি ভালো বলেও তিনি জানান।

তবে মার্কেটের নিচ তলায় স্বপ্নলয় লেডিস অ্যান্ড বেবি ফ্যাশনের মালিক আনোয়ার হোসাইন বলেন, ‘সাধারণত শবেবরাতের পর থেকেই ঈদের কেনাকাটা শুরু হয়। কিন্তু এবার নির্বাচনের কারণে সেটি দেরিতে শুরু হয়েছে। তাছাড়া বর্তমানে পড়েছে যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব। প্রবাসীরা খুব একটা টাকা পাঠাতে পারছেন না। আর মানুষও এখন সহজে টাকা খরচ করতে চাচ্ছেন না।’