ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মারধরের শিকার শিক্ষার্থী রাহিদ খানের মা শাহবাগ থানায় এজাহার করেছেন। এতে অভিযুক্ত হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাহিদের মা পারভীন আক্তার এ এজাহার জমা দেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান ও পরিদর্শক (অপারেশনস) খোকন মিয়া এজাহার জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এজাহারে মো. সাইফুল্লাহ (ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ, মুহসীন হল), হাসিব আল ইসলাম (সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, প্রস্তাবিত শহীদ ওসমান হাদী হল), সাঈদ আফ্রিদী (সংস্কৃত বিভাগ, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ, মুহসীন হল), রিয়াদ মাল (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ, সূর্যসেন হল), সর্দার নাদিম মোহাম্মদ শুভ (দর্শন বিভাগ, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ, সূর্যসেন হল), মো. সাকিব (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল), ফোরকান উদ্দীন মাহি (সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, প্রস্তাবিত শহীদ ওসমান হাদি হল), বায়েজিদ হাসান (দর্শন বিভাগ, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ, মুহসীন হল), হিমেল (স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগ, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ, সূর্যসেন হল), সজীব হোসেনের (ফলিত গণিত বিভাগ, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ, শহীদুল্লাহ হল) নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, রাহিদকে প্রথমে বুয়েটের শহীদ মিনারের সামনে, এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলের সামনে পেটানো হয়। সবশেষ শাহবাগ থানার সামনেও তাকে আরেক দফা পেটানো হয়। এতে রাহিদ গুরুতর আহত হন। অভিযুক্তরা রাহিদের মাথা লক্ষ্য করে লোহার রড, স্টিলের পাইপ দিয়ে আঘাত করে। রাহিদের ডান হাতের আঙুল ভেঙে যায়। বাঁ কানে গুরুতর আঘাত পান তিনি। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত সাইফুল্লাহ, হাসিব-আল-ইসলাম, সাঈদ আফ্রিদী, রিয়াদ মাল, সর্দার নাদিম শুভ, মো. সাকিব, ফোরকান উদ্দীন মহি, বায়েজিদ হাসান, হিমেল ও সঞ্জীব হোসেনসহ আরও ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড, স্টিলের পাইপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে পাভেলের ওপর হামলা চালান। সাইফুল্লাহ লোহার রড দিয়ে পাভেলের মাথায় আঘাত করতে গেলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তার ডান হাতের আঙুল ভেঙে যায়। এ ছাড়া অন্য অভিযুক্তরা লোহার রড ও স্টিলের পাইপ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন।