অভ্যুত্থান-পরবর্তী দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের চরমপন্থি সংগঠনগুলো আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে র্যাব। সংস্থাটি বলছে, আত্মসমর্পণ করা অনেক চরমপন্থি সদস্য নতুন করে অপরাধমূলক কর্মকা-ে সক্রিয় হয়ে উঠছে। বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ দুই অস্ত্র কারবারিকে গ্রেপ্তারের পরই এমন তথ্য দিয়েছে র্যাব।
গত কয়েক দিন রাজধানীর আদাবর ও সিরাজগঞ্জ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন পাবনার অস্ত্র কারবারি ও সন্ত্রাসী আলমগীর হোসেন ওরফে শুটার আলমগীর এবং রকিব রানা।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে এসব অস্ত্র চট্টগ্রাম এলাকা থেকে ঢাকায় আনা হয়েছে। পরে সেগুলো পাবনায় নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। পাবনা ও কুষ্টিয়া অঞ্চলে চর দখল নিয়ে বালুমহালে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন চরমপন্থি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও সন্ত্রাসী কর্মকা- হয়ে থাকে। এসব অস্ত্র এ অঞ্চলের বালুমহালে আধিপত্য বিস্তারে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। আগে আত্মসমর্পণকারী অনেক চরমপন্থি ফের অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ছে।
সুন্দরবনে র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করা জলদস্যুরাও আবার অপরাধে জড়াচ্ছে। তাদের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবেÑ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের অপরাধ জগতে বিচরণ বা প্রত্যাবর্তন দেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করে। সুন্দরবনে জলদস্যুদের বিষয়ও লক্ষ করছি। র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে এ ধরনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তৎপরতা আগেও ছিল, এখনো আছে। ভবিষ্যতেও থাকবে।
ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, যারা আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরত গিয়েছিল, সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে তারা যেন স্বাভাবিক জীবনেই তাদের কাজকর্ম চালিয়ে যায়। তারা যেন এ দস্যু জীবনে আর ফেরত না আসে। যারা এরই মধ্যে অপরাধে জড়িয়ে গেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিভিন্ন সময়ে র্যাব এককভাবে আবার কখনো র্যাব, পুলিশ ও কোস্ট গার্ড যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে।
চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে র্যাবের কর্মকর্তা বলেন, ওই অভিযানে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ সদস্য অংশ নেন। এতে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশি পিস্তল, একটি এলজি, ২৭টি পাইপগান তৈরির পাইপ, ৩০টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৬১টি কার্তুজ, ১ হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি, ১১টি ককটেলসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।