নারীপ্রধান পরিবারের নামে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করল সরকার। গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। এছাড়া বিভাগীয় শহর ও জেলা পর্যায়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মন্ত্রী, এমপি কিংবা জেলা প্রশাসকরা। সে সময় তারা এ কর্মসূচির যৌক্তিকতা ও নানা দিক তুলে ধরেন।
চট্টগ্রামে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রধানমন্ত্রী তরেক রহমানের কল্যাণকর রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রথম পদক্ষেপ। এই কার্ডের মাধ্যমে দেশের পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোকে মূল্যায়নের জন্য প্রথমে বেছে নেওয়া হয়েছে আমাদের পরিবারের নারীপ্রধানকে। কারণ তাকে যদি ক্ষমতায়ন করা না যায়, তার সক্ষমতা, সামাজিক মর্যাদা ও ক্ষমতা বাড়ানো না যায় তাহলে আগামীর বাংলাদেশ আমরা গড়তে পারব না।
তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রের সুফল শুধু কিছু ওপরের মানুষ পাবে বাকিরা পিছিয়ে থাকবে এ ধরনের অর্থনীতি আমরা বাংলাদেশে চলতে দেব না।
অর্থমন্ত্রী বলেন, যাদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে সেখানে কোনো দলীয়করণের সুযোগ ছিল না। অতীতে দেখা গেছে সরকারদলীয় লোকজনই এসব সুবিধা পায়। কিন্তু এই কার্যক্রমে কোনো রাজনৈতিক নেতাকর্মী সংযুক্ত ছিল না।
সরকারি কর্মকর্তারা নির্দ্বিধায় নির্বিঘ্নে এই কাজটা করেছে যার জন্য দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই সুযোগটা আমরা পৌঁছে দিতে পেরেছি।
গতকাল চট্টগ্রামের পতেঙ্গা বিমানবন্দর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম-৯ আসনের এমপি আবু সুফিয়ান। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
ঠাকুরগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ফ্যামিলি কার্ড নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে পরিবারের জীবনমানের সার্বিক উন্নয়নে বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন।
মঙ্গলবার সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড রহিমানপুর সম্মিলিত ঈদগাহ দাখিল মাদ্রাসা মাঠ প্রাঙ্গণে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড জিনিসটা আসলে কী? এটা আসলে একটা শক্তি। এটি একটি ক্ষমতা, এই কার্ডটি আপনাকে সেই ক্ষমতা দেবে যেই ক্ষমতা দিয়ে আপনি সবার সামনে দাঁড়াতে পারবেন। আপনি এটি দিয়ে শুধুমাত্র আর্থিক বা অন্যান্য সহায়তা পাবেন বিষয়টি তা না। আপনি এ দেশের একজন নারী হিসেবে, পরিবারের প্রধান হিসেবে আপনার অবস্থানটিকে দৃঢ় করতে পারবেন। আপনার মধ্যে একটি শক্তি আসবে।
পরিবারের নারীদের ক্ষমতায়নের ব্যাপারে মির্জা ফখরুল বলেন, এমনিতেই আমাদের মায়েরা কিন্তু সবচেয়ে বেশি সংগ্রাম করে। পরিবারের জন্য, সংসারের জন্য, ছেলে মেয়েদের মানুষ করবার জন্য, টিকিয়ে রাখবার জন্য, তাদের ভালো খাওয়ানোর চেষ্টা করা, সেই শক্তিটাকে আরও বাড়ানো।
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় কার্যক্রমটির উদ্বোধনকালে শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের উদ্দেশ্য হচ্ছে পারিবারিক ভিত্তি দৃঢ় করা। গতকাল উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করেন। সেখানে জেলা প্রশাসক ড. ইলিয়াস মিয়ার সভাপতিত্বে আরও উপস্থিতি ছিলেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নাসির চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম কয়ছর আহমদ, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
খুলনা সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের উপকারভোগীদের মাঝে ৪ হাজার ১৫৮ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার নগরীর খালিশপুর হাজী শরিয়ত উল্লাহ বিদ্যাপীঠ প্রাঙ্গণে প্রধান অতিথি হিসেবে জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি এ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হক, কেএমপির পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, জেলা প্রশাসক আ. স. ম জামশেদ খোন্দকার, কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলী হোসেন জামান।
রাজবাড়ীতে ফ্যামিলি কার্ড হস্তান্তরের উদ্বোধনী করেন প্রধামন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ, পুলিশ সুপর মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ প্রমুখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার।
গতকাল বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড সুবিধাভোগীদের হাতে তুলে দেন জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান। সে সময় তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড আর কোনো স্বপ্ন নয়, এটা নারীদের স্বনির্ভর হওয়ার পথ।