দশমবার পেছাল হাদি হত্যা মামলার প্রতিবেদন

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ আবারও পিছিয়েছে।

আজ বুধবার (১১ মার্চ) এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঞা প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম নতুন করে আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন ওসমান হাদি। এরই মধ্যে গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় তাকে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে দুইদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

গুলির ঘটনার দুইদিন পর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। পরে হাদির মৃত্যু হলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। মামলার তদন্তে নেমে ডিবি পুলিশ গত ৬ জানুয়ারি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। আসামিদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত ফয়সালের মা-বাবা, স্ত্রী, শ্যালক ও বান্ধবীও ছিলেন।

ডিবির দেওয়া ওই অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী জাবের আদালতে না-রাজি দাখিল করেন। পরে আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।

এদিকে মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গত ৭ মার্চ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হাদিকে হত্যা এবং ভারতে পালিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে। ইতোমধ্যে দুই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।