নিজেকে ব্র্যান্ড মনে করেন না নাহিদ রানা

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২০৯ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুরে এই ম্যাচে ২৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ে ভর করেই মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।

ক্রিকেটে দ্রুতগতির বোলারদের অনেক সময় বিশেষ নামে ডাকা হয়। যেমন পাকিস্তানের কিংবদন্তি শোয়েব আখতার পরিচিত ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’ নামে, আর বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ছিলেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’। নাহিদ রানাকেও তাঁর জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের নামে ‘চাঁপাই এক্সপ্রেস’ বলা যেতে পারে কি না—এমন প্রশ্ন উঠেছিল ম্যাচ–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে।

প্রশ্নের উত্তরে নাহিদ অবশ্য নিজেকে কোনো বিশেষ পরিচয়ে বেঁধে ফেলতে চাননি। তিনি বলেন, “আমি নিজেকে কোনো ব্র্যান্ড মনে করি না। নিজেকে সাধারণ মানুষ মনে করি। চেষ্টা করি কীভাবে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারি।”

ম্যাচে শুরুটা ভালোই করেছিল পাকিস্তান। প্রথম ৯ ওভারে তারা কোনো উইকেট হারায়নি। তবে এরপর বল হাতে ঝড় তোলেন নাহিদ। মাত্র ৭ ওভারের স্পেলে ২৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের চিত্রই বদলে দেন তিনি।

নিজের সফলতার পেছনের পরিকল্পনা সম্পর্কে নাহিদ বলেন, “শুরুতে মোস্তাফিজ ভাই আর তাসকিন ভাই বোলিং করছিল। তাদের সঙ্গে কথা বলছিলাম উইকেট কেমন আচরণ করছে। তারা বলেছিল, একই জায়গায় লাইন–লেন্থ ধরে রাখতে পারলে ব্যাটসম্যানদের জন্য খেলা কঠিন হবে। আমি শুধু মাঠে সেই পরিকল্পনাটা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করেছি।”

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রায় দুই বছর হলেও নাহিদ নিয়মিত খেলেছেন মূলত টেস্টে। এর আগে কয়েকটি ওয়ানডে খেললেও এই সংস্করণে জায়গা পোক্ত করতে পারেননি। এমনকি সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেও দলে ছিলেন না। আবার ওয়ানডে দলে ফিরে নিজের জায়গা ধরে রাখতে চান এই পেসার।

তিনি বলেন, “দল থেকে আমাকে বলা হয়েছিল মন খুলে বোলিং করতে এবং আমি যে জিনিসটা পারি সেটাই মাঠে প্রয়োগ করতে।”

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই গতি দিয়ে আলোচনায় থাকা নাহিদ অবশ্য নিজের ফোকাস রাখছেন দক্ষতা উন্নয়নে। তাঁর ভাষায়, “গতি নিয়ে আমি খুব একটা ভাবি না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গতির চেয়ে স্কিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি সেই দিকটা নিয়েই কাজ করার চেষ্টা করছি।”