নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে, আরেকটি মাইলফলক এলো ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে। সরকারপ্রধান তারেক রহমান মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে এক অনুষ্ঠানে এ-কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ ছাড়া বিভাগীয় শহর ও জেলা পর্যায়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মন্ত্রী, এমপি কিংবা জেলা প্রশাসকরা। সে সময় তারা এ কর্মসূচির যৌক্তিকতা ও নানা দিক তুলে ধরেন। এই কার্ড নারীর মনে শক্তি ও সাহস জোগাবে বলেছেন এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল। কল্যাণকর রাষ্ট্রের প্রথম পদক্ষেপ ফ্যামিলি কার্ড এ বক্তব্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর। আর বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ডের উদ্দেশ্য পারিবারিক ভিত্তিকে দৃঢ় করা। মন্ত্রীদের এসব মন্তব্য একটি রাজনৈতিক পরিণতিকে লক্ষ্য করে। তারেক রহমানের সরকার যে তার দেওয়া ওয়াদা অক্ষরে অক্ষরে পালন করছে, ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের প্রকল্পই তার উজ্জ্বল উদাহরণ। উদ্বোধিত ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু হলেও, তা চলবে যতদিন পর্যন্ত প্রতিটি পরিবারের গৃহকর্ত্রীর হাতে এই কার্ড না পৌঁছাবে, ততদিন। এই কার্ড বিতরণ স্বপ্ন নয় এখন। স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রথম ও কল্যাণকর পদক্ষেপ। এই ধারা অব্যাহত রাখতে, কোনোরকম দলীয় ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিতরণ করার যে ওয়াদা তারেক রহমান করেছিলেন, তা যে কথার কথা ছিল না এর ভেতর দিয়ে সেটাই প্রমাণ পেল।
আমাদের দেশের সামাজিক কাঠামো পুরুষপ্রধান হওয়ায়, নারী তার প্রকৃত মর্যাদা পায়নি কোনো দিন। অথচ সংসার, পরিবারে কেন্দ্রীয় চরিত্র হচ্ছে মা। তিনি নির্মাণ করেন, সংসারের যাবতীয় স্তম্ভ। পুরুষ কেবল সরবরাহ করে আয়-রোজগারের অর্থ। সে-নারীর সঙ্গে ভাগাভাগি করে না তার সংসার গড়ে তোলার পরিকল্পনা। নারী পুরুষের পরিকল্পনার ডিজাইন তৈরি করে এবং তা বাস্তবায়ন করে। ঘরের ভিত তৈরিতে পুরুষ মাল-সামান সরবরাহ করলেও, সেই ঘরের ধোয়া লেপনসহ, ঘরের মেঝে পরিচ্ছন্ন করার কাজ তারা করেন। এভাবে সংসারের শিশুদের লালনপালন আর তাদের মানুষ করার যাবতীয় পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের রূপায়ণ নারীর। সারা দিন তার শ্রমেরও কোনো স্বীকৃতি নেই, যা এখন তারেক রহমানের হাত ধরে তারা পেয়ে যাচ্ছেন। এই অকল্পনীয় কল্যাণকর কাজ ও নারীকে সংসার ও পরিবারের প্রধান শক্তি ও সাহসের প্রতীক করে তুললেন। এটাই হচ্ছে গ্রামীণ নিরীহ ও বঞ্চিত নারীকে ক্ষমতায়নের সিঁড়িতে তুলে আনা। ঠিক এরই পরিপ্রেক্ষিতে, তিনি প্রকল্প সাজিয়েছেন কৃষক কার্ডের। কৃষক হচ্ছে খাদ্যশস্য ও কৃষির প্রাণশক্তি। উৎপাদনের সময় কৃষক যে সমস্যা-সংকটের মধ্যে পড়ে, তা থেকে তাকে রক্ষা করা এবং ফসল উৎপাদনে তার ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করাই হবে এ কার্ডের প্রধান কাজ। এই প্রকল্পও অচিরেই শুরু হবে। এরই পাশাপাশি খাল খনন প্রকল্প, আমাদের মনে জাগিয়ে দিচ্ছে শহীদ জিয়ার খাল খনন কর্মসূচির সূচনাটিকে। খালে শুকনো মৌসুমে পানি ধরে রেখে তা সেচের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর ইতিহাস গড়েছিলেন। তারেক রহমানের এই প্রকল্পকে যুগান্তকারী বলব এজন্য যে, তিনি আগামী দিনের প্রয়োজন দেখতে পাচ্ছেন।
১৮/১৯ কোটি মানুষের খাদ্যশস্য উৎপাদনে কৃষকের যে অবদান, কৃষক কার্ড তারই রাজনৈতিক স্বীকৃতিই কেবল নয় আত্মশক্তি উন্নয়নের প্রতীকও। এরপর বলতে চাই, প্রত্যেকটি রাস্তাঘাটের দুই পাশে ফলদ/ঔষধি ও জ্বালানির জন্য বৃক্ষরোপণ। ওই অক্সিজেন ফ্যাক্টরিগুলো আমাদের বাঁচাবে। আমাদের পর্যাপ্ত শ্বাস-প্রশ্বাসের সহযোগ দেবে, যা নীরোগ জীবনের প্রাথমিক উপাদান। প্রত্যেকটি প্রকল্প মানুষকে সুস্থ দেহে বেঁচে থাকা নিশ্চিত করে। এই প্রকল্পগুলো অতীতে দু-একবার ছাড়া পরিলক্ষিত হয়নি। আমাদের উচিত হবে, সরকারের এই কল্যাণকর পদক্ষেপে আত্মনিয়োগ করা। স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে খাল খনন হতে পারে। আবার কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি দিয়েও করা যেতে পারে। আমরা আশা করতে চাই, সরকার দক্ষতার সঙ্গে গৃহীত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত করবে।