রাশিয়ার ওয়ার্ক পারমিট ভিসা দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ এবং পাসপোর্ট আটকে রেখে ব্লাকমেইলের অভিযোগে যমুনা ভিসা এক্সপ্রেসের চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যশোরের আদালতে মামলা করেছেন হাসানুজ্জামান নামে এক ভুক্তভোগী।
যশোরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহেদ আহমদ অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে বুধবার (১১ মার্চ) কোতোয়ালি থানার ওসিকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে শার্শার গোপালপুর গ্রামের হাসানুজ্জামান বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
মামলার আসামিরা হলেন ঢাকার বারিধারা এলাকার যমুনা ভিসা এক্সপ্রেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুল হাসান, পরিচালক মো. রাহানুল আলম, ম্যানেজার ইউসুফ আলী ও এজেন্ট সুমন খান।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, হাসানুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে আবুধাবিতে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে তিনি রাশিয়ায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেখে ঢাকার বারিধারায় যমুনা ভিসা এক্সপ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা তাকে দুই বছরের রাশিয়ার ওয়ার্ক পারমিট ভিসা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং এর বিনিময়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। চুক্তি অনুযায়ী গত ১৯ ডিসেম্বর বাদী কুরিয়ারের মাধ্যমে তার পাসপোর্ট পাঠান এবং ২৩ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানের ঢাকা কার্যালয়ে গিয়ে নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি ভিসা সম্পন্ন করে পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও তারা ভিসা দেননি। উল্টো পাসপোর্ট ফেরত পেতে আরও এক লাখ টাকা দিতে হবে বলে দাবি করেন। এতে নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট না পাওয়ায় বাদীর আবুধাবির রেসিডেন্স ভিসা জটিলতায় পড়েন এবং সেখানে তার ব্যক্তিগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটিও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। ফলে তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।