বিশ্বকাপে খেলা ইরানের জন্য নিরাপদ নাও হতে পারে: ট্রাম্প

আসন্ন ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান জাতীয় ফুটবল দলকে বিশ্বকাপে স্বাগত জানানো হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের অংশগ্রহণ নিরাপদ নাও হতে পারে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, “ইরান জাতীয় ফুটবল দল বিশ্বকাপে অংশ নিতে অবশ্যই স্বাগত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আমি মনে করি না যে সেখানে তাদের উপস্থিতি তাদের নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য উপযুক্ত হবে।”

২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই আসরে গ্রুপ পর্বে ইরানের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিসর। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ইরানের ম্যাচগুলো লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় ইরানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার খবর প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ওই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ইরানের সরকারও বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। দেশটির ক্রীড়া ও যুবমন্ত্রী আহমাদ দোনিয়ামালি এক সাক্ষাৎকারে বলেন ,“এই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা কোনোভাবেই বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। আমাদের খেলোয়াড়রা নিরাপদ নয়, এবং অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশও বর্তমানে বিদ্যমান নেই।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেশের সম্মান ও নিরাপত্তা সবার আগে। বর্তমান পরিস্থিতিতে খেলাধুলার মতো আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত কঠিন।”

যদি শেষ পর্যন্ত ইরান বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে তাদের পরিবর্তে অন্য কোনো দলকে সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। তবে সেই ক্ষেত্রে কোন দলকে সুযোগ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

উল্লেখ্য, ইরান যদি অংশগ্রহণ করে, তাহলে এটি হবে তাদের টানা চতুর্থ বিশ্বকাপ আসর। তবে বর্তমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার কারণে দেশটির অংশগ্রহণ শেষ পর্যন্ত অনিশ্চয়তার মুখেই রয়েছে।