অবশেষে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ, আতঙ্ক আর অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া আসার সময় সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে যে দুশ্চিন্তায় থাকতেন অভিভাবকরা, সেই সড়কেই এবার বসেছে গতিরোধক। বালিয়াকান্দি গোরস্থান থেকে সাধুমোল্যার মোড় পর্যন্ত সড়কে চারটি গতিরোধক স্থাপন হওয়ায় স্বস্তি মিলেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে।
দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় অভিভাবক ও তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এই সড়কে গতিরোধক স্থাপনের দাবি জানানো হচ্ছিল। বিভিন্ন সময় দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে শুক্রবার (১৩ মার্চ) সড়কের চারটি স্থানে গতিরোধক স্থাপন করা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গোরস্থান থেকে সাধুমোল্যার মোড় পর্যন্ত চারটি পয়েন্টে গতিরোধক স্থাপনের কাজ চলছে। জানা গেছে, বালিয়াকান্দি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালিয়াকান্দি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এবং মনিমুকুর কিন্ডার গার্টেন। এই তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন মোটরসাইকেল, ভ্যান, নসিমন ও ইটভাটার ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন দ্রুতগতিতে চলাচল করে। স্কুল শুরু ও ছুটির সময় শিশু শিক্ষার্থীরা বেশি যাতায়াত করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি ছিল বেশি। বিশেষ করে ছুটির পর শিক্ষার্থীরা তাড়াহুড়ো করে রাস্তায় চলে আসায় প্রায়ই বিপদের মুখে পড়তে হতো তাদের।
বালিয়াকান্দি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আবু হাসান বলেন, অবশেষে স্বস্তি এসেছে। আমার নিজের ছেলেও একবার বাইকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়েছিল। তার ডান পায়ের হাড় ভেঙে গিয়েছিল। প্রায়ই এই সড়কে দুর্ঘটনা ঘটতো। স্কুলের সামনে দিয়ে শিশুদের যাতায়াতের সময় আমরা খুবই উদ্বিগ্ন থাকতাম। এখন চারটি গতিরোধক হওয়ায় আমরা অনেকটাই স্বস্তি পেয়েছি। এজন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
মনিমুকুর কিন্ডার গার্টেনের অধ্যক্ষ খোন্দকার রফিকুদদৌলা বাবলু বলেন, দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এখানে গতিরোধক স্থাপনের। অবশেষে সেটি বাস্তবায়ন হয়েছে। স্কুল ছুটির পর ছোট ছোট শিশুরা দৌড়াদৌড়ি করে রাস্তায় চলে যায়, তাই সবসময় উদ্বিগ্ন থাকতে হতো। এখন অনেকটাই নিশ্চিন্ত থাকা যাবে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী খন্দকার রাহাত ফেরদৌস বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী এখানে গতিরোধক স্থাপন করা হয়েছে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সড়কটির পাশেই তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করেই এখানে গতিরোধক স্থাপন করা হয়েছে। আশা করি ভবিষ্যতে এই সড়কে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে যাবে।