ইরানের কামিয়াবি এবং ইসরায়েল ও আমেরিকার ধ্বংস চেয়ে রাজধানী ঢাকায় সমাবেশ করেছে বৈষম্য ও জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী সংগঠন ‘ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-জনতা’। আজ শুক্রবার বাদ জুমা রাজধানীর মালিবাগ মোড়ে ফালইয়াফরাহু চত্বরে সমাবেশ করেন তারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ইসরায়েল ও আমেরিকা দুটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। তারা বিশ্ব মানবতার জন্য চরম হুমকি। পৃথিবীতে এদের থাকার কোনও অধিকার নেই। ইরানে হামলা করে এরা নিজেরাই নিজেদের মৃত্যু ডেকে এনেছে। বিশ্ব সন্ত্রাসী ড্রাম (ট্রাম্প) এখন যুদ্ধ থেকে পালাতে পারলে বেঁচে যায়। তারা বার বার যুদ্ধ বিরতি চাইছে।
ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার সাধারণ সম্পাদক কাজী আহমদ বলেন, ইরানের কিছুতেই যুদ্ধ বিরতি করা ঠিক হবে না। যেহেতু সন্ত্রাসীরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীকে শহীদ করেছে, তাই যতদিন আমেরিকার বড় সন্ত্রাসী ড্রামকে (ট্রাম্পকে) হত্যা করতে না পারবে, ততদিন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া উচিত ইরানের।
সমাবেশে ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার আহ্বায়ক আরিফ আল খবীর বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসী ইসরায়েল নামক কোনও রাষ্ট্রের অস্তিত্ব থাকতে পারবে না। ইরানের উচিত দ্রুত ইসরায়েল দখল করে সেখানে নিজেদের ঘাঁটি বানানো। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য বা আফ্রিকায় আমেরিকা, যুক্তরাজ্য বা ফ্রান্সের কোনও ঘাঁটি থাকতে পারবে না। অবিলম্বে তাদের সকল ঘাঁটি সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সব মুসলিম দেশের উচিত ইরানকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা।
ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-জনতার বক্তাগণ বলেন, সন্ত্রাসী আমেরিকাকে বাংলাদেশেও কোনোভাবে স্থান দেওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে গোপনীয় বাণিজ্য চুক্তি করে বিষাক্ত গম-সয়াবিন, জিএমও ফুড, উচ্চ দামে উড়োজাহাজ ও অস্ত্রপাতি বিক্রি করতে চায়। সমাবেশে বক্তাগণ বলেন, আমেরিকার ইরান যুদ্ধে যে বিপুল ক্ষতি হয়েছে, এসব দ্রব্য উচ্চমূল্যে বিক্রি করে তার খরচ কিছু পোষাতে চায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসব পণ্য কেনা মানে ইরান যুদ্ধে মার্কিনীদের সহায়তা করা। তাই অবিলম্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সব ধরনের বাণিজ্য ও সামরিক চুক্তি বাতিল করার দাবি জানান তারা।
ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-জনতার বক্তাগণ বলেন, ভারত ইরানের জাহাজকে মহড়ার কথা বলে ডেকে এনে সেই তথ্য আমেরিকা-ইসরায়েলকে দেয়। এতে আমেরিকা নৃশংসভাবে জাহাজে হামলা করে প্রায় ১০০ ইরানি নাবিককে শহীদ করে। বক্তাগণ এই কাপুরুষোচিত হামলার জন্য আমেরিকার সঙ্গে ভারতেরও বিচার দাবি করেন। তারা বলেন, সব মুসলিম দেশের উচিত ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা।
সমাবেশ শেষে ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-জনতার বক্তাগণ বলেন, দোয়া হচ্ছে মুমিনের অস্ত্র। যেহেতু বাংলাদেশের জনগণ ইরানে যেতে পারছে না, তাই তাদের উচিত বাংলাদেশ থেকেই ইরান, বিশেষ করে মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করা—যেন মহান আল্লাহ পাক মুসলিম উম্মাহকে হেফাজত করেন এবং বিজয় দান করেন। আর আমেরিকা-ইসরায়েল-ইউরোপ-ভারতসহ তাবৎ কাফিরের বিরুদ্ধে বদদোয়া করা—যেন মহান আল্লাহ পাক তাদের ধ্বংস করে দেন।