মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এশিয়া থেকে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ায় এশীয় মিত্র দেশগুলোতে নিরাপত্তার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে পেন্টাগন দক্ষিণ চীন সাগর থেকে একটি বিমানবাহী রণতরী বহর এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তর করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের ড্রোন ও রকেট হামলা মোকাবিলায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব দুর্বল হবে; শক্তিশালী হবে চীনের অবস্থান।
দক্ষিণ কোরিয়া থেকে প্রথমবারের মতো থাড ইন্টারসেপ্টর সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং এ বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, আমরা দ্বিমত পোষণ করলেও নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী সবসময় চলার উপায় আমাদের থাকে না।
যুদ্ধ শুরুর প্রথম ছয় দিনেই মার্কিন খরচ ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। দুই সপ্তাহেরও কম সময়ে ১ হাজারের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এতে অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া এবং অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জাপান ও তাইওয়ান তাদের অর্ডারকৃত অস্ত্র সরবরাহে দেরির ঝুঁকিতে রয়েছে। গত জানুয়ারির এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের ১১৮টি মার্কিন অস্ত্র চুক্তি স্বাক্ষরের পাঁচ বছর পরও সরবরাহ করা হয়নি।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করছে। চায়না ডেইলিতে প্রকাশিত একটি কার্টুনে ‘আঙ্কেল স্যাম’কে মাকড়সার জালে আটকা দেখানো হয়েছে, যার শিরোনাম ‘মধ্যপ্রাচ্যে আটকা পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র’।
এশিয়ার কূটনীতিকরা মনে করছেন, ইরান যুদ্ধ চীনের আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের পথ সুগম করবে। এশিয়ার দেশগুলো এখন বুঝতে পারছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কিনলেও প্রয়োজনের সময় হাতে তা নাও পেতে পারে।