মুদ্রার অন্যপিঠ দেখল বাংলাদেশ

সেই ১১৪ রান! দিন দুই আগে মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে ১১৪ রানে অলআউট করেছিল বাংলাদেশ। গতকাল শুক্রবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তানের কাছে নিজেরাই অলআউট হলো ১১৪ রানে। এ রানটা করতে পাকিস্তান প্রথম ম্যাচে খেলেছিল ৩০.৪ ওভার, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ অলআউট হলো ২৩.৩ ওভারে। বৃষ্টি আইনে ১২৮ রানে বাংলাদেশকে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে পাকিস্তান। রবিবার শেষ ম্যাচটা তাই হয়ে উঠেছে সিরিজ নির্ধারণী।

ওয়ানডে অভিষেকে শূন্য রানেই আউট হওয়ার দুঃসহ স্মৃতিটা মাজ সাদাকাত ভুলে যেতে পারেন দ্বিতীয় ম্যাচের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে। সাদাকাত বামহাতি স্পিন করে বাংলাদেশের ৩ উইকেট নিয়ে গেলেন, পাঁচ ওভারে ২৩ রান খরচায়। তার শিকার তালিকায় আছেন লিটন দাস, ৪১ রান করে সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ। সাদাকাতের বলে সুইপ খেলতে গিয়ে লিটন যেভাবে আউট হয়েছেন, সেটা আসলে প্রশ্নবিদ্ধ করে তার দায়িত্বশীলতাকেই। লিটন ইনিংসে থাকলেও যে বাংলাদেশ ম্যাচটা জিতে যেত, এমনটা নয়। তবে সাধারণমানের পার্টটাইম বামহাতি স্পিনারকে ৩ উইকেট দিয়ে আসাটা প্রমাণ করে, বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বশীলতা কতটা কম।

সাহেবজাদা ফারহান আর মাজ সাদাকাতের ১০৩ রানের উদ্বোধনী জুটির পর রিজওয়ান ও সালমান আগা মিলে চতুর্থ উইকেট জুটিতে বড় সংগ্রহের পথেই রেখেছিলেন পাকিস্তানকে। কিন্তু মেহেদী মিরাজ সালমানকে বিতর্কিতভাবে রানআউট করে দেওয়ার পর পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা যেন রাগের বশে তেড়েফুঁড়ে ব্যাট চালাতে গেলেন। তাতেই একের পর এক উইকেট হারিয়ে ৪৭.৩ ওভারে ২৭৪ রানে অলআউট পাকিস্তান।

বাংলাদেশের রান তাড়ার শুরুতেই থামিয়ে দিল বৃষ্টি। তার আগেই অবশ্য ২৭ রানে ৩ উইকেট নেই ৬.৩ ওভারে। প্রায় ঘণ্টা দুয়েক বৃষ্টিতে থেমে থাকল খেলা। নতুন করে শুরু হলো রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে। ৩২ ওভারের ম্যাচে বাংলাদেশকে করতে হবে ২৪৩ রান। সেই রানটা তাড়ার খুব একটা চেষ্টা কারও ব্যাটেই দেখা যায়নি। লিটনের ইনিংসটাকে কিছুটা সেই কাতারে ফেলা গেলেও জীবন না পেলে লিটনের ইনিংসটাও দাঁড়ায় না। সব মিলিয়ে ব্যাটিংয়ে ভীষণ দুর্দশার দিন। বৃষ্টি, বিতর্ক আর ব্যাটিং দুর্দশার দিনে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ১২৮ রানের হার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

পাকিস্তান : ৪৭.৩ ওভারে ২৭৪ (সাদাকাত ৭৫, সালমান ৬৪; রিশাদ ৩/৫৬, মিরাজ ২/৩৪)।

বাংলাদেশ : ২৩.২ ওভারে ১১৪ (লিটন ৪১, হৃদয় ২৮; সাদাকাত ৩/২৩, রউফ ৩/২৬)।

ফল : পাকিস্তান ১২৮ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা: মাজ সাদাকাত। সিরিজ : ১-১ সমতা।