কাটছে প্রতীক্ষার প্রহর

অবশেষে কাটতে শুরু করেছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের প্রশাসনিক ও কৌশলগত জটিলতা। সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জাপানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাধাগুলো অপসারণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শুক্রবার পররাষ্ট্র ও বিমান মন্ত্রণালয় যৌথভাবে জাপানের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে টার্মিনাল পরিচালনাসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম জাপান তদারকি করবে। এমনকি শুল্কের কিছু অংশ জাপান পাবে। এর আগেও এসব দাবির কারণে টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ থমকে যায়।

বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, জাপানের একগুঁয়েমির কারণেই মূলত টার্মিনাল উদ্বোধন করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাছাড়া বেবিচকের কর্তাব্যক্তিদের খামখেয়ালিও ছিল। গতকাল এ বিষয়গুলো বৈঠকে চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়েছে। জাপান বলেছে, তারা আগামী তিন মাসের মধ্যে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করে বিমান মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। তবে বৈঠকে যেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সেগুলো জাপান সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাবে উত্থাপন করা হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যেই টার্মিনাল উদ্বোধন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের ঐকমত্যের ভিত্তিতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে এ টার্মিনালটি যাত্রী ও কার্গো পরিবহনের জন্য পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহেদুল আলম বলেন, ‘বর্তমান প্রশাসন দিয়ে থার্ড টার্মিনাল চালু করা যাবে কি না, তা নিয়ে আমার নিজেরও যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। এডিসির সঙ্গে যে প্রশাসন আলোচনা করে ফলাফল আনতে পারেনি, উল্টো আমাদেরই বিশাল অঙ্কের টাকার খড়গ চেপে বসেছে। সেই কর্মকর্তারা আবারও আলোচনায় বসে কতটুকু সফলতা আনতে পারবেন, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সরকার যদি আন্তঃমন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করে, সেখানে দক্ষ লোকদের অন্তর্ভুক্ত করে, সে ক্ষেত্রে একটি পজিটিভ রেজাল্ট আসতে পারে।’

কাজী ওয়াহেদুল আলম বলেন, ‘জাপান ও কোরিয়া আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র। তাদের সঙ্গে কাজ করে আমরা ভালো রেজাল্ট আনতে পারতাম। কিন্তু অদক্ষতা ও অদূরদর্শিতার কারণে আমরা সেটা পারিনি।’

টার্মিনাল পরিচালনায় জাপান : দীর্ঘ আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে এ অত্যাধুনিক টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এবং সামগ্রিক পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে জাপান। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলের আওতায় একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে তারা এ কাজ পরিচালনা করবে। কারিগরি ও প্রশাসনিক সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আগামী ছয় মাসের মধ্যেই টার্মিনালটি সাধারণ যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। বর্তমানে সেখানে বিভিন্ন ইকুইপমেন্ট ইনস্টলেশন এবং ট্রায়াল রানের কাজ চলছে। জাপানি ব্যবস্থাপনা যুক্ত হওয়ার ফলে যাত্রী হয়রানি কমবে এবং আন্তর্জাতিকমানের চেক-ইন, ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং ও ইমিগ্রেশন সেবা নিশ্চিত হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেবিচকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঐকমত্যের ফলে বাংলাদেশের অ্যাভিয়েশন সেক্টরে এক বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।

যাত্রী বাড়বে প্রায় ২ কোটি : থার্ড টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে শাহজালাল বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা প্রায় ৮০ লাখ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২ কোটিতে উন্নীত হবে। এ ছাড়া আধুনিক কার্গো ভিলেজ নির্মাণের ফলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যেও গতি ফিরবে।

বেবিচক সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর শাহজালাল বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের অনুমোদন দেয় একনেক। টার্মিনাল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। নির্মাণকাজে অর্থায়ন করছে জাইকা। ভবনটির নকশা করেছেন বিখ্যাত স্থপতি রোহানি বাহারিন। তিনি এনওসিডি-জেভি জয়েন্ট ভেঞ্চার পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সিপিজি করপোরেশন প্রাইভেট লিমিটেডের (সিঙ্গাপুর) স্থপতি। ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।

টার্মিনালে যা থাকছে : টার্মিনালে আছে কেবিন এক্স-রে মেশিন ৪০টি, বোর্ডিং ব্রিজ ১২টি, কনভেয়ার বেল্ট ১৬টি, বডি স্ক্যানার ১১টি, টানেলসহ বহুতলবিশিষ্ট কার পার্কিং ৫৪ হাজার বর্গমিটার, নতুন ইমপোর্ট কার্গো কমপ্লেক্স এবং নতুন এক্সপোর্ট কার্গো কমপ্লেক্স ৬৩ হাজার বর্গমিটার, রেসকিউ ও ফায়ার ফাইটিং স্টেশন এবং ইকুইপমেন্ট ৪ হাজার বর্গমিটার, ভূমি উন্নয়ন, কানেক্টিং ট্যাক্সিওয়ে (উত্তর) ২৪ হাজার বর্গমিটার, কানেক্টিং ট্যাক্সিওয়ে (অন্যান্য) ৪২ হাজার ৫০০ বর্গমিটার, র‌্যাপিড এক্সিট ট্যাক্সিওয়ে (উত্তর) ২২ হাজার বর্গমিটার, র‌্যাপিড এক্সিট ট্যাক্সিওয়ে (দক্ষিণ) ১৯ হাজার ৫০০ বর্গমিটার, শোল্ডার ৯৬ হাজার ৫০০ বর্গমিটার, জিএসই রোড ৮৩ হাজার ৮০০ বর্গমিটার, সার্ভিস রোড ৩৩ হাজার বর্গমিটার, ড্রেনেজ ওয়ার্কস (বক্স কালভার্ট ও প্রোটেকটিভ ওয়ার্কস), বাউন্ডারি ওয়াল, সিকিউরিটি গেট, গার্ডরুম ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ, ল্যান্ড সাইড, সার্ভিস রোডসহ এলিভেটেড রোড, ওয়াটার সাপ্লাই সিস্টেম, স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, ইনটেক পাওয়ার প্ল্যান্ট ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম, কার্গো কমপ্লেক্সের জন্য সিকিউরিটি ও টার্মিনাল ইকুইপমেন্ট, এয়ারফিল্ড গ্রাউন্ড লাইটিং সিস্টেম, হাইড্রেন্ট ফুয়েল সিস্টেম। টার্মিনালের অন্যতম আকর্ষণ ফানেল টানেল।

অ্যাপ্রোনে থাকবে ৩৭টি উড়োজাহাজ : ৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটারে ৩৭টি উড়োজাহাজ রাখার অ্যাপ্রোন ও ১ হাজার ২৩০টি গাড়ি রাখার সুবিধা, ৬৩ হাজার বর্গফুট জায়গায় আমদানি-রপ্তানি কার্গো কমপ্লেক্স, ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার সব মিলিয়ে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিমানবন্দরের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে। নাম প্রকাশ না করে বেবিচকের ঊর্ধ্বতন আরেক কর্মকর্তা গত বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘থার্ড টার্মিনালকে সামনে রেখে ১২টি নতুন এয়ারলাইনস ফ্লাইট পরিচালনার জন্য আবেদন করেছে। খুবই সুন্দরভাবে সাজানো হচ্ছে পুরো টার্মিনাল। সিলিংয়ে সোনালি, সাদা, আকাশি রঙের চোখ-ধাঁধানো কারুকাজ। মেঝেতে লাগানো হচ্ছে বাহারি টাইলস। বাইরে দেওয়া হয়েছে শাপলা ফুল। টার্মিনালের জন্য বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে ৫ হাজার ২৫৮ কোটি ৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। বাকি ১৬ হাজার ১৪১ কোটি ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে জাইকা। এরই মধ্যে টাকা ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। পরে ওই অর্থের জোগান দিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ।’

তিনি বলেন, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হওয়ার পর ঢাকা বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী ও কার্গো হ্যান্ডলিং ক্ষমতা দ্বিগুণ হবে। এতে বার্ষিক যাত্রী হ্যান্ডলিং ক্ষমতা হবে ২৪ মিলিয়ন (পুরনো টার্মিনালসহ), যা এখন আট মিলিয়ন এবং বিমানবন্দরটি প্রতি বছর পাঁচ লাখ টন কার্গো হ্যান্ডেল করতে পারে। নতুন টার্মিনালটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ভূগর্ভস্থ রেলপথ (এমআরটি-৫, কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর অংশ) ও একটি ভূগর্ভস্থ টানেলের মাধ্যমে বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। এ ছাড়া আশকোনা হজ ক্যাম্প থেকে আন্ডারগ্রাউন্ড টানেলের মাধ্যমে যাত্রীরা তৃতীয় টার্মিনালে যেতে পারবেন।

বৈঠকে যা হলো : গতকাল সকালে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল সচল করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও জাপান পুনরায় আলোচনা শুরু হয়। একটি জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে এ আলোচনা উভয়পক্ষের জন্য লাভজনক বা ‘উইন-উইন’ ভিত্তিতে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা) বৈঠকের পর বলেন, ‘আমাদের আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা যত দ্রুত সম্ভব থার্ড টার্মিনালটি সচল করার চেষ্টা করছি। আমরা আশা করি, জাপানের সঙ্গে একটি সম্মানজনক চুক্তির মাধ্যমে নতুন এ টার্মিনালটি চালু করতে পারব।’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকটি হয়। নবগঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক আলোচনা, যা টার্মিনালটির পরিচালনা ও চুক্তিভিত্তিক অচলাবস্থা নিরসনে সরকারের নতুন উদ্দীপনার প্রতিফলন ঘটায়।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম প্রমুখ।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হুমায়ুন কবির এবং প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত আলোচনাকে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেন এবং একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত বলেন, পূর্ববর্তী চুক্তির ত্রুটিগুলো সংশোধন করে বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষা হয় এমন একটি ‘উইন-উইন’ সমাধান খোঁজা হচ্ছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তিতে বিভিন্ন চার্জ এবং পরিচালনাসংক্রান্ত বিষয়ে কিছু জটিলতা ছিল। সাধারণত বিমান চলাচল চুক্তিতে তিন ধরনের চার্জ থাকে এবং এগুলোর কিছু বিষয়ে দুপক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছিল। উভয়পক্ষ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। বাংলাদেশ তার প্রস্তাব পেশ করেছে এবং জাপানি পক্ষও তাদের অবস্থান তুলে ধরেছে।

তিনি আরও বলেন, জাপানি পক্ষ বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করে দ্রুত একটি সংশোধিত প্রস্তাব জমা দিতে সম্মত হয়েছে, যার ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রকল্পের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত : এ প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত জাপানি কনসোর্টিয়ামে রয়েছে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, সোজিতজ করপোরেশন এবং নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট করপোরেশন। প্রকল্পটির সিংহভাগ অর্থায়ন করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। ঢাকা বিমানবন্দরের যানজট কমাতে এবং বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অ্যাভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে এ টার্মিনালটি চালু করা অত্যন্ত জরুরি।

১৬৫০ কোটি টাকা নিয়ে দোটানায় বেবিচক : নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের দেনা ১৬৫০ কোটি টাকার ব্যাপারে মন্ত্রণালয় ও বেবিচক এখনো পর্যন্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। আর এ টাকা পরিশোধের বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও বেবিচক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তার সিদ্ধান্ত চাইবে বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জাপানের মিৎসুবিশি করপোরেশন থার্ড টার্মিনালের জন্য আলোচনা করার জন্য মেইল করে বেবিচককে। তবে ফিরতি মেইলে তারা বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।

চেয়ারম্যান-মেম্বারদের বদলির শঙ্কা : বেবিচকের প্রশাসনিক কাজে এক ধরনের স্থবিরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। বর্তমান চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বদলির গুঞ্জনে এমন অবস্থা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। সপ্তাহখানেক আগে বিমানমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বেবিচক পরিদর্শন করেন। তারা বর্তমান পরিস্থিতি দেখার জন্য থার্ড টার্মিনালও ঘুরে দেখেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি থার্ড টার্মিনাল চালুর ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে তিনি থার্ড টার্মিনাল নির্মাণকাজে অংশ নেওয়া অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়ামের (এডিসি) সঙ্গে আলোচনায় বসার নির্দেশ দেন। যত দ্রুত সম্ভব থার্ড টার্মিনাল চালুরও নির্দেশ দেন তিনি।

বেবিচক কর্মকর্তাদের উদাসীনতা : বেবিচক সূত্র জানায়, বিশেষ করে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণে অংশ নেওয়া জাপানের মিৎসুবিশি করপোরেশন ও ফুজিতা করপোরেশন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি করপোরেশনের যৌথভাবে ‘অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি)’ নামে একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে দেনা-পাওনা নিয়ে কর্মকর্তাদের উদাসীনতা ছিল চরমে। এমনকি মেগা এ প্রজেক্টকে বিতর্কিত করতেও তারা ছিলেন মরিয়া। এ কারণে অন্যতম এ মেগা প্রজেক্টের কাজ শেষ হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। শুধু তাদের কারণে অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি) দেনা-পাওনা পরিশোধে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে যায়, যা দেশের ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষুণœ করে। ওই রায়ে তাদের পক্ষে যায় যার কারণে ১৬৫০ কোটি টাকা দিতেই হচ্ছে।

চিঠি নিয়ে চালাচালি : প্রধানমন্ত্রী সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন সেখানে আবারও চিঠি চালাচালি মানেই এটিকে আরও দীর্ঘায়িত করার একটি কৌশল। আসলে বর্তমান প্রশাসনের পক্ষে থার্ড টার্মিনাল চালু তো দূরের কথা, আলোচনায় অগ্রগতি করতে পারবে না বলেও যথেষ্ট সন্দেহ করছেন বেবিচকের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, বেবিচকের কাজে এক ধরনের স্থবিরতা চলে আসছে। শাহজালালসহ দেশের সব বিমানবন্দরের বেবিচকের ঊর্ধ্বতন দুই-তিনজন কর্মকর্তা বদলি হওয়ার গুঞ্জনে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

ফাইল আটকে রাখায় তোপের মুখে কর্মকর্তা : অতিসম্প্রতি চেয়ারম্যানের কক্ষের সামনে এক ঠিকাদারের তোপের মুখে পড়েন মেম্বার অপারেশনস মেহবুব খান। ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখার কারণে তিনি সেখানে নাজেহাল হন। কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, তাদের বদলির ব্যাপারে বেবিচক জুড়েই আলোচনা হচ্ছে। এ কারণে তারাও কাজে মনোযোগী নন। কোনো ফাইল গেলে সেটি আটকে রাখছেন।