ঢাবি ছাত্রশক্তি নেতার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রশক্তির এক নেতার গ্রামের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বসতঘরের বেড়া কুপিয়ে ভাঙচুরের দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা। গত বৃহস্পতিবার ভোররাতে উপজেলার ডোমঘাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মো. সাইফুল্লাহ ঢাবি শাখা ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ধোবাউড়া উপজেলার ডোমঘাটা গ্রামের আলী হোসেন ব্যাপারীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটে সাইফুল্লাহর বাড়ির একটি লাকড়ির ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে একটি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সাইফুল্লাহ বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে আমার বাড়ির রান্নাঘরে আগুন দেওয়া হয়। বসতঘরেও কুপিয়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বড় ধরনের ক্ষতির আগেই আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি  বলেন, আগে থেকেই ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নানাভাবে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে।

ইদানীং হুমকি বেশি ছিল। কিন্তু এলাকায় এ কাজ কারা করেছে তা বুঝতে পারছি না। এলাকা থেকে কোনো ধরনের হুমকি ছিল না। কিন্তু গত কয়েকটি ইস্যুতে এলাকার পলাতক আওয়ামী লীগের লোকজন ফেসবুক পোস্ট, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে হুমকি দিচ্ছিল। ঘটনার পর অনবরত হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে মেসেজ দিয়ে বলছে, ‘তোর বাড়িতে আগুন দিলাম, ভাগ্যিস তুই নাই। তোর ছেলেমেয়ে বেঁচে গেল।’ এসব ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শঙ্কায় আছি। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা এর সঙ্গে জড়িত। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টায় বিক্ষোভ মিছিল করেন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ মিছিলটি ভিসি চত্বর থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

ধোবাউড়া থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ভোরেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে একটি লাকড়ির ঘরে আগুন লাগার ঘটনা পাওয়া গেছে। বসতঘরের টিনের বেড়ায় তিনটি কোপের দাগ দেখা গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

গতকাল সকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সার্কেলের পুলিশ সুপারের সঙ্গে আলোচনা করে সাইফুল্লাহর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, গত ৮ মার্চ সাহরির সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহে মারধরের অভিযোগ ওঠে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, হাসিব, শুভ, সাইফুল্লাহ ও মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন তাকে প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা মারধরের পর পাভেলকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করে। ওই ঘটনার সময় সাইফুল্লাহ তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টে লিখেছিলেন, ‘ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ধরেছি। শাহবাগ থানায় নিয়ে যাচ্ছি। লীগ প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’ পরে তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন।

এ বিষয়ে সাইফুল্লাহ জানান, রাহিদ খান পাভেলকে মারধরের ঘটনার সঙ্গে তার গ্রামের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন।