পাখিদের জীবন রহস্যে ঘেরা, যার মূল কারণ তাদের অবিশ্বাস্য পরিযায়ী ক্ষমতা, বুদ্ধি এবং অদ্ভুত আচরণ। অনেক পাখির বাসা তৈরির গোপন স্থান ও প্রজনন প্রক্রিয়া এখনো অজানা। পাখিরা কি পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র, সূর্য, নাকি তারার অবস্থান দেখে দিক নির্ণয় করে, তা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মার্বেল্ড মুরলেটের মতো কিছু পাখি সমুদ্রের ওপর জীবন কাটায় এবং এমন গোপন স্থানে বাসা বাঁধে যে, বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ সময় ধরে তাদের বাসা খুঁজে পাননি। নাইট প্যারটকে বলা হয়, ‘বিশে^র সবচেয়ে রহস্যময় পাখি।’ অস্ট্রেলিয়ার মরুভূমি অঞ্চলের এক অত্যন্ত দুর্লভ ও রহস্যময় নিশাচর পাখি, যা ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিলুপ্ত বলে ধারণা করা হতো। তবে ২০১৩ সালে পশ্চিম কুইন্সল্যান্ডে এদের পুনরায় খুঁজে পাওয়া যায়। ছোট, সবুজ-হলুদ বর্ণের এই তোতাপাখি মাটিতে বাস করে এবং ঘাসের ঝোপে বাসা বাঁধে। বিড়াল ও ফক্সের আক্রমণ এবং বাসস্থান ধ্বংসের কারণে তাদের অস্তিত্ব অনেকটা বিপন্নের মুখে। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার এবং অস্ট্রেলীয় সরকার এদের ‘ক্রিটিক্যালি অ্যান্ডেঞ্জার্ড’ বা চরম বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। পাখিগুলো অত্যন্ত লাজুক স্বভাবের কারণে খুব কম মানুষের নজরে পড়ে। এরা নিশাচর, দিনে মরুভূমির ঘন স্পিনিফেক্স ঘাসের নিচে লুকিয়ে থাকে এবং রাতের অন্ধকারে বের হয়, যা এদের খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তাদের রহস্যময় জীবন নিয়ে গবেষণার অনেক কিছু বাকি।