আজ ফের বসছে সংসদ

সংবিধান সংস্কার নিয়ে উত্তাপ বাড়ছে

দুদিন বিরতি দিয়ে আজ রবিবার সকালে আবার শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন। এরই একদিন আগে গতকাল শনিবার ১১দলীয় জোট সরকারকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার দাবি জানিয়েছে। দাবি মানা না হলে তারা আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এই ইস্যুতে সরকারি দল বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংসদে এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে এই ইস্যুতে সংসদ উত্তপ্ত হতে পারে। গতকাল শনিবার সংসদ ভবনে জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক হয়েছে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আলোচনা হতে পারে। আলোচনা অধিবেশনে হতে পারে।’ এখানে (কার্য উপদেষ্টা কমিটি) শপথ না নিলে জামায়াতের রাজপথে নামার ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা তাদের জিজ্ঞেস করেন।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আজ কার্য উপদেষ্টা কমিটির প্রথম বৈঠক হয়েছে। সংসদের প্রথম অধিবেশন কতদিন চলবে, কী কী আলোচনা হবে, কী কী আইন উত্থাপন হবে, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর কত ঘণ্টা আলোচনা হবেতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১৫ মার্চ বেলা ১১টায় মুলতবি অধিবেশন হবে। এরপর ১৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি থাকবে এবং ২৯ মার্চ থেকে সংসদ আবারও বসবে। এপ্রিল জুড়েই সংসদ অধিবেশন চলবে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনার জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল গত বৃহস্পতিবার। এ বিষয়ে অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিশেষ কমিটির উদ্দেশ্য হলো মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠনের আগে ঐতিহ্য অনুযায়ী বিশেষ কমিটি গঠিত হয়। এটা কালকেই আইনমন্ত্রী উত্থাপন করবেন। অধ্যাদেশগুলো বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হবে। সেখানে যাচাই-বাছাই করে রিপোর্ট আকারে সংসদে উত্থাপিত হবে। এ অধিবশনে অবশ্যই সম্ভব।’

সংবিধান সংস্কার পরিষদের আলোচনা নিয়ে জামায়াতের আন্দোলনের ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বিএনপি কী ভাবছে সংসদে বলব। সংসদ সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।’

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আমরা আমাদের বক্তব্য অবশ্যই দেব। আমরা কোন কারণে ওয়াক আউট করেছিলাম, কোন কারণে মনে করেছিলাম রাষ্ট্রপতির বক্তব্য দেওয়া অনুচিত, আমরা ধন্যবাদ দেব না (রাষ্ট্রপতিকে), আমাদের বক্তব্যটা বলব।’

সংবিধান সংস্কার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে বিরোধীদলীয় নেতা সময়মতো এ আলোচনার প্রসঙ্গ তুলবেন।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘গণভোটের রায় যেহেতু সংস্কারের পক্ষে এসেছে। সংসদ অধিবেশনের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির সংবিধান সংস্কার অধিবেশন ডাকার কথা ছিল। সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হবে। এটা সরকারি দলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন। সেটা আমরা সংসদে জানতে চাইব। সরকারি দলের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা করণীয় ঠিক করব। আমরা চাইব এ সংসদ যত দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদে যেন রূপ নেয়।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত : গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির প্রথম বৈঠক হয়েছে। কমিটির সভাপতি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, কমিটির সদস্য বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, এ টি এম আজহারুল ইসলাম, বিরোধীদলের চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম এবং মুহাম্মদ নওশাদ জমির। বৈঠকে স্পিকারের বিশেষ আমন্ত্রণে অংশগ্রহণ করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের কার্যাদি নিষ্পন্নের জন্য সময় বরাদ্দকরণ ও অধিবেশনের স্থায়িত্বকাল নিয়ে আলোচনা করা হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বিকেল ৩টায় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে এবং ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন সমাপ্ত হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রয়োজনে অধিবেশনের সময় ও কার্যদিবস সম্পর্কিত যেকোনো বিষয় পরিবর্তনের ক্ষমতা স্পিকারকে প্রদান করা হয়।

এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৮টি ও অন্যান্য মন্ত্রীর জন্য ৪৬০টি প্রশ্নসহ মোট ৪৬৮টি প্রশ্ন পাওয়া গেছে। বিধি-৭১ এ মনোযোগ আকর্ষণের নোটিস পাওয়া গেছে ২৭টি এবং সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের সংখ্যা (বিধি-১৩১) এ ৯৭টি নোটিস পাওয়া গেছে।

বৈঠকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা। সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।