প্রভুভক্ত কুকুর ‘হাচিকো’

টোকিও ইউনিভার্সিটির কৃষি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন ইজাবুরো। আদরের কুকুরটি তার নিত্যসঙ্গী, তার নাম ছিল ‘হাচিকো’। সকালে হাচিকোকে সঙ্গে নিয়ে শিবুয়া  স্টেশনে আসতেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য ট্রেনে উঠতেন। লেকচার শেষ করে বিকেলে আবার ফিরে আসতেন স্টেশনে, যেখানে হাচিকো তার জন্য অপেক্ষা করত। এরপর দুজন বাড়ি ফিরতেন। ১৯২৫ সালে বিশ^বিদ্যালয়ে ইজাবুরোর স্ট্রোক হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান। এদিকে বিকেলে হাচিকো উৎসাহ নিয়ে অপেক্ষা করছিল মনিবের জন্য। কিন্তু কেউ এলো না। পরদিন শিবুয়া স্টেশনে গিয়ে  সে বসে রইল। কিন্তু প্রিয় মনিব আজও এলো না। হাচিকো হাল ছেড়ে দিল না। পরের দিন আবারও একই জায়গায় একই সময়ে দেখা গেল। অল্পদিনের মধ্যেই হাচিকোকে আশপাশের সবাই চিনল। ইজাবুরোর ছাত্রদের কানে এই ঘটনা গেল। একদিন তার একজন ছাত্র শিবুয়া স্টেশনে হাচিকোকে দেখতে এলো। সেখানে ছোট্ট হাচিকোকে  দেখে সে অবাক। এরপর একটি পত্রিকায় হাচিকোর এই প্রভুভক্ততা নিয়ে সে লেখা ছাপল। ফলে পৃথিবী হাচিকোর কথা জানল। বিভিন্ন দেশ থেকে লোকজন জাপানে আসতে লাগল হাচিকোকে এক নজর দেখার জন্য। টানা ১০ বছর প্রতিদিন একই সময় সে স্টেশনে হাজির হতে লাগল। অবশেষে ১৯৩৫ সালের এক সন্ধ্যায় হাচিকো মারা যায়। সবাই গভীর আলিঙ্গনে তাকে বুকে তুলে নিল। শেষকৃত্য সম্পন্ন হলো ইজাবুরোর কবরের পাশে। কিন্তু ইজাবুরোর ছাত্ররা হাচিকোর একটি আবক্ষ মূর্তি তৈরি করেছিলেন, যা এখনো আছে।