পটিয়ায় কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

চট্টগ্রামের পটিয়ায় মো. হাসান বাবু (১৬) নামের এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। 

রবিবার (১৫ মার্চ) রাতে শোভনদন্ডী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড কুরাংগিরি বিলের চৈতার মার খালের ঢাল থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সে কুরাংগিরি গ্রামের আব্দুল মালেকের নতুন বাড়ির মো. আমিনুল হকের ছেলে। 

এ ঘটনায় নিহতের মা মোছা. হাছিনা আকতার (৪৭) বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা রুজু করেন। নিহত মো. হাসান বাবু বাদীনির একমাত্র সন্তান।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিদের সঙ্গে বাদীর দীর্ঘদিন যাবত পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। ইতিপূর্বেও বিবাদীগন বাদীকে সহ তার ছেলে মৃত মো. হাসান বাবুকে একাধিকবার মারধরসহ হত্যার হুমকি প্রদান করে। উক্ত বিষয়ে এলাকায় একাধিকবার শালিশ বৈঠক করলেও বিবাদীগন বাদীকে এবং তার ছেলেকে যে কোন স্থানে একা ফেলে খুন জখম করে লাশ গুম করবে মর্মে হুমকি প্রদান করে আসছে। নিহত হাসান বাবু বিগত ৫ দিন যাবত তাদের গ্রামের জনৈক ফোরকান এর মহিষ পার্শ্ববর্তী বিলে লালন পালন (চড়ায়) করছিল। প্রতিদিনের মতো গতকাল সকাল আনুমানিক ৭টার সময় ১১টি মহিষ নিয়ে কুরাংগিরি বিলের মধ্যে ঘাস খাওয়ানোর জন্য নিয়ে যায়।  

পটিয়া থানাধীন ১৯ (ক) নং শোভনদন্ডী ইউপির কুরাংগিরি সাকিনের ৯নং ওয়ার্ডস্থ বিলের মধ্যে চৈতার মার খালের নিকটবর্তী বিলের (মাঠে) মধ্যে ঘাস খাওয়ানোর জন্য নিয়ে যায়। সন্ধ্যায় ছেলে বাড়িতে ফিরে না আসায় বাদীসহ আশপাশের লোকজন ও তার নিকট আত্মীয় স্বজন তার ছেলে মো. হাসান বাবুকে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন মাধ্যমে সন্ধান নেওয়ার চেষ্টা করে। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ৭টার সময় কুরাংগিরি চৈতার মার খালের ঢালের মো. হাসান বাবু এর শরীরে মাটি ও নাকে মুখে রক্ত মাখা ও গলায় একাধিক নখের জখম অবস্থায় মৃত পড়ে থাকতে দেখতে পায়। তখন তাদের শোরচিৎকারে আশপাশের লোকজন আসলে তাদের সহযোগীতায় বাদীর কিশোরের লাশ উদ্ধার করে বসত বাড়িতে নিয়ে আসে।

বাদী মোছা. হাছিনা আকতার জাানান, পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে বিবাদীগন সহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন বিবাদীগন তাদের পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক আমার ছেলেকে ঘটনাস্থলে একা পেয়ে তাদের সকলের অগোচরে পরিকল্পতিভাবে একই উদ্দেশ্যে হত্যা করে ছেলের লাশ ফেলে রেখে বিবাদীগন পালিয়ে যায়। 

পটিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জানান, খবর পেয়ে পটিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহত মো. হাসান বাবু এর মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতপূর্বক লাশ ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় বাদীর এজাহারের প্রেক্ষিতে থানায় একটি হত্যা মামলা রেকর্ড করা হয়। এ ঘটনায় মো. লিমন (২০) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।