মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় বাঘ দম্পতি বেলি ও টগরের ঘরে জন্ম হয়েছে চারটি বাচ্চার। এর মধ্যে তিনটির গায়ের রং সাদা (অ্যালবিনো) বা সাদার ওপর কালো ডোরাকাটা। অপর বাচ্চাটির গায়ের রং হালকা হলুদ ও সাদার মিশেলে কালো দাগযুক্ত।
শনিবার (১৪ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চিড়িয়াখানার পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার।
তিনি জানান, প্রায় আড়াই মাস আগে ৪ জানুয়ারি বাঘিনী বেলি এই চারটি বাচ্চা জন্ম দেয়। জন্মের পর থেকেই সবকটি বাচ্চা সুস্থ ও সবল রয়েছে। চিড়িয়াখানার ইতিহাসে এটাই প্রথম কোনো বাঘিনীর একসঙ্গে চারটি বাচ্চা প্রসবের ঘটনা।
এর আগে ২০২২ সালের ৫ এপ্রিল জুঁই, জবা ও রঙ্গন নামে তিনটি বাচ্চা জন্ম দিয়েছিল বেলি-টগর দম্পতি। এছাড়া তারা আরও দুবার দুটি করে বাচ্চার জন্ম দেয়। ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর জন্ম নেওয়া বেলি প্রথম বাচ্চা দেয় ২০২১ সালের ২৫ মে।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের জুলাইয়ে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় রাজ ও পরি দম্পতি চারটি সাদা বাচ্চার জন্ম দিয়েছিল।
এবার জন্ম নেওয়া চার বাচ্চার নাম ও লিঙ্গ এখনো নির্ধারণ করেনি চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। মা বেলি ও বাচ্চাদের সার্বক্ষণিক সিসিটিভির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
চিড়িয়াখানার মাংসাশী প্রাণী বিভাগের কাছে একটি খাঁচায় মা বেলি ও তার চার শাবককে রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপদ দূরত্বে রাখতে খাঁচার চারপাশে জাল দিয়ে ঘেরাও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মশারি টাঙিয়ে পোকামাকড়ের হাত থেকে বাচ্চাদের সুরক্ষিত রাখা হচ্ছে। অতীতে মাছির কামড়ে বাঘের বাচ্চা মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটায় এবার এই সতর্কতা।
চিড়িয়াখানা সূত্র জানায়, গর্ভবতী হওয়ার পর থেকেই বেলিকে টগর থেকে আলাদা রাখা হয়। বাচ্চা জন্মের পরও টগর আলাদাই আছে। বাচ্চাগুলো এখনো মায়ের দুধপান করছে। তবে মা বেলিকে দেওয়া মাংস তারা চেখে দেখছে এবং কখনো কখনো খাওয়ার চেষ্টা করছে। বাঘের বাচ্চারা সাধারণত চার মাস বয়সে মাংস খাওয়া শুরু করে। এই বাচ্চাদের বয়স আট মাস হলে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
চারটি নতুন বাচ্চা আসায় জাতীয় চিড়িয়াখানায় বাঘের সংখ্যা এখন ১৬টিতে উন্নীত হয়েছে। চিড়িয়াখানায় মোট পাখি ও প্রাণীর সংখ্যা বর্তমানে ৩ হাজার ৫০৬টি।