জোনায়েদ সাকি

আমাদের বেঁচে থাকার জন্য নদী-নালা, খাল-বিল অত্যন্ত জরুরি

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, নির্বাচনের যে অঙ্গীকার সেই অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু করে দিয়েছেন। তার ধারাবাহিকতা চলছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মধ্যে ৪০০টি খাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিহ্নিত করা হয়েছে। খালগুলো আমরা খালগুলো পুনরুদ্ধার করতে চাই সঠিকভাবে।

আজ সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের বোয়ালিয়া সেতু সংলগ্ন এলাকায় বোয়ালিয়া খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্ধোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

জোনায়েদ সাকি বলেন, খাল খননের মধ্য দিয়ে একটা উৎপাদন বৃদ্ধি, বিনিয়োগ বৃদ্ধির যে অর্থনৈতিক দিশা একই সঙ্গে প্রাণ-প্রকৃতি  রক্ষা করতে হবে। এই দুইয়ের সংমিশ্রনের মধ্য দিয়ে পুরো উন্নতিটাকে দেখার যে দৃষ্টিভঙ্গি সরকারের সেটাকেই কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, নদী-নালা, খাল-বিল এগুলো আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই উৎপাদন বৃদ্ধি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আমাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি অত্যাবশ্যকীয় জিনিস। মোদ্দাকথা এই প্রাণ প্রকৃতিকে রক্ষা করেই আমাদের বাকি জীবনটাকে সাজাতে হবে। এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা করার জন্যই যারা নদী-নালাকে দখল করছে, যারা দূষণ করছে, ময়লা-আবর্জনায় ভরে ফেলছে এগুলোকে দ্রুত একটা পরিবর্তনের জায়গায় যেতে হবে। দখল মুক্ত করতে হবে, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে, এগুলোকে সজীব করে তুলতে হবে যাতে করে আমাদের জীবনটা সজীব হয়ে উঠে আমাদের অর্থনীতিটা সজীব হয়ে উঠে।

তিনি বলেন, পানির প্রবাহ এমনিতেই একটা সংকটের মধ্যে আছে। আমরা পানির ন্যায্য হিস্যা পায় না। ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ কমে যায়। কিন্তু খালগুলো যদি ঠিকঠাক মতো থাকে তাহলে যতটুকুই পানির প্রবাহ আছে সেই টুকুর মধ্যে বছরের বেশিরভাগ সময়ে এখানে এই পথকে নৌপথ হিসেবে এটা ব্যবহার করা সম্ভব হবে। ফলে আমাদের কৃষি অর্থনীতি-পরিবহনের মধ্যে একটা বড় আকারের পরিবর্তন আসবে।

জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহানের সভাপতিত্বে খাল খনন কর্মসূচির অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসেনর সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ হান্নান, পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সদস্য হাফিজুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক আলী আজম প্রমুখ।

এ ছাড়া খাল পুনঃখনন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম।