১৯৭৭ সালে গ্রামীণ কৃষি উন্নয়নে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। দেশে কৃষি সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিল সেই খাল খনন প্রকল্প। এবার বাবার দেখানো পথে হাঁটলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের কৃষি ও পরিবেশ বাঁচাতে দিনাজপুর থেকে আবারও শুরু করলেন জনপ্রিয় এই কর্মসূচি।
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের সাহাপাড়ায় খাল খননের মাধ্যমে একযোগে দেশের ৫৪টি খালের খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সাহাপাড়ায় নিজে কোদাল হাতে খাল খননে নামেন প্রধানমন্ত্রী। খাল খনন কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয় মানুষদের মাঝে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। এতে পানির সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
কৃষি সেচ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ৫৪টি জেলায় চলবে এই কর্মসূচি।
১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর দেশ গড়ার কাজে নেমে পড়েন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আয়েশি জীবন রেখে কৃষক-শ্রমিকের সাথে কোদাল-কাস্তে নিয়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ছোটেন প্রেসিডেন্ট জিয়া।
গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে দেশজুড়ে শুরু করেন খাল খনন কর্মসূচি। সে সময় ‘খাল খনন’ প্রকল্প ছিল শহীদ জিয়ার একটি জাতীয় আন্দোলন। বর্ষার পানি ধরে রাখা, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নৌযোগাযোগ ফিরিয়ে আনা-সবকিছুর কেন্দ্রে ছিল এই উদ্যোগ। এতে গ্রামবাংলার ছোট-বড় খালগুলো ফিরে পেয়েছিল জীবনস্রোত।
১৯৭৭ থেকে ১৯৮১; এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি সম্প্রসারণে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিল এই খাল খনন কর্মসূচি। বিআইআইএসএস জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯৭৯ থেকে ১৯৮১ সালের মধ্যে মোট ২৭৯টি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৩ হাজার ৬৩৬ মাইল খাল খনন করা হয়।